বন্ধ করা হচ্ছে অতিরিক্ত সিম কার্ড এতে আপনার করণীয় কি?

একজন ব্যক্তি তার এনআইডি কার্ড / স্মার্ট কার্ড দ্বারা কয়টি সিম কিনতে পারবেন তার একটি নির্দিষ্ট সীমা ঠিক করে দিয়েছে বিটিআরসি। একজন ব্যক্তি তার এনআউডি কার্ড দ্বারা সর্বোচ্চ ১৫টি সিম রেজিস্টার করতে পারবেন। আমাদের দেশে সিম অনেক সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়। যার ফলে অনেকে খুব একটা চিন্তা না করেও সিম কিনে থাকেন।

বেশ অনেক দিন ধরেই একজন ব্যক্তির নামে কয়টি সিম রেজিস্টার করা আছে সে নিয়ে তেমন ভাবতে হয়নি। তবে সম্প্রতি জানা গেছে এই বছরের অক্টোবর/নভেম্বরের মধ্যে ১৫টির অধিক সিম থাকলে বাড়তি সিমগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোন সিমগুলো চালু থাকবে ও কোনগুলো বন্ধ হয়ে যাবে, তা চেক করার কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। যার কারণে একই আইডি কার্ডে বাড়তি সিম থাকলে কোন সিমগুলো বন্ধ হবে ও কোনগুলো চালু থাকবে সে সম্পর্কে নিশ্চিত করা যাচ্ছেনা।

এমন অবস্থায় উল্লেখিত তারিখের মধ্যে বাড়তি সিম বন্ধ না করলে ব্যবহারের প্রয়োজনীয় সিমও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই কারণে ১৫টির অধিক সিম একই ব্যক্তির নামে রেজিস্টার করা থাকলে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে৷ আপনার নামে যদি ১৫টির অধিক সিম থাকে, তাহলে বাড়তি সিমগুলো নিয়ে কি করা যেতে পারে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন এই পোস্টে।

আর্টিকেল সূচনা

সমাধান ১

একই এনআইডি কার্ড বা স্মার্ট কার্ড দ্বারা যদি ১৫টির অধিক সিম কার্ড থাকে, তাহলে অপ্রয়োজনীয় বা ব্যবহার না করা সিম ডিরেজিস্টার করতে পারেন। অর্থাৎ আমরা যেভাবে সিম রেজিস্টার করে আমাদের নামে মালিকানায় অন্তর্ভুক্ত করি, একইভাবে সিম ডিরেজিস্টার করে মালিকানা মুছে ফেলার সুযোগ রয়েছে।

সকল অপারেটরের সিম ডিরেজিস্টার এর প্রক্রিয়া প্রায় একই ধরনের। অপারেটর এর কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে স্বশরীরে গিয়ে সিম ডিরেজিস্টার করতে হবে। সিম ডিরেজিস্টার করলে উক্ত সিমের মালিকানা আপনার নাম এর সাথে আর সংযুক্ত থাকবেনা। অর্থাৎ ডিরেজিস্টার করার পর আপনি আর উক্ত সিম এর মালিক থাকবেন না।

যেকোনো অপারেটরের সিম ডিরেজিস্টার করতে উক্ত অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করুন। কাস্টমার কেয়ারে যাওয়ার সময় অবশ্যই আপনার সিম ও এনআইডি কার্ড / স্মার্ট কার্ড সাথে নিয়ে যান। সিম ডিরেজিস্টার করতে অর্থাৎ সিম এর মালিকানা বাতিল করতে অবশ্যই সিম এর মালিকের উক্ত স্থানে উপস্থিত থাকতে হবে। ১৫টির অধিক সিম থাকলে সেক্ষেত্রে সিম ডিরেজিস্টার করে বাড়তি সিমের মালিকানা মুছে ফেলে কাজের সিমগুলোর মালিকানা রাখতে পারেন।

আপনি কি মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে টাকা আয় করতে চান? তাহলে এখানে ক্লিক করুন

সমাধান ২

আবার ধরুন আপনার কাছে থাকা বাড়তি সিম আপনি ডিরেজিস্টার করতে চান না। সেক্ষেত্রে বাড়তি সিমগুলো বন্ধু বা পরিবারের কাউকে দিয়ে দিতে পারেন। তবে এখানে যেহেতু আমরা বাড়তি সিম বন্ধ হওয়ার বিষয়ে কথা বলছি, সেক্ষেত্রে অবশ্যই বাড়তি সিমগুলোর মালিকানা পরিবর্তন করতে হবে। সিম ডিরেজিস্টার এর মত বাড়তি সিম এর মালিকানা পরিবর্তন করা যাবে অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে। মালিকানা পরিবর্তন করলে নতুন মালিকের নামে সিমটি রেজিস্টার হয়ে যাবে। ফলে আপনার এনআইডি থেকে সিমটি মুছে যাবে।

তবে সিম ডিরেজিস্টার এর চেয়ে সিম এর মালিকানা প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল প্রক্রিয়া। সিম এর মালিকানা পরিবর্তন করতে চাইলে সিম এর বর্তমান মালিক এনআইডি কার্ডসহ নতুন মালিক ও তার এনআইডি কার্ড সাথে নিয়ে কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করুন। গ্রামীণফোন ঘরে বসে সিম এর মালিকানা পরিবর্তন এর সুযোগ রেখেছে, বাকি অপারেটর এত্র ক্ষেত্রে কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে সিম এর মালিকানা পরিবর্তন করতে পারবেন।

অক্টোবর ১৫, ২০২২ এর মধ্যে আপনার নামে রেজিস্টার থাকা বাড়তি সিম ডিরেজিস্টার করুন কিংবা মালিকানা পরিবর্তন করুন। যেহেতু কোন সিমগুলোকে বাড়তি সিম হিসেবে সিস্টেম বিবেচনা করছে তা জানার উপায় নেই, তাই সিম ডিরেজিস্টার বা মালিকানা পরিবর্তন না করলে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারের সিমও বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই ঝামেলায় পড়তে না চাইলে শীঘ্রই বাড়তি সিম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। তবে আপনার নামে যদি ১৫টির কম সিম রেজিস্টার থাকে তাহলে চিন্তার কোনো কারণ নেই। সেক্ষেত্রে সিমগুলো সব সচল থাকবে। তবে আপনার নামে কয়টি সিম রেজিস্টার আছে সে সম্পর্কে ধারণা না থাকলে অবশ্যই উল্লেখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

ফেসবুক থেকে আয় করা শিখতে হলে এখানে ক্লিক করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.