বিজনেস

ই কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন ২০২৩

ই কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন -বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করার মাধ্যমে বিজনেস তথা ব্যবসার নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়েছে। তার ধারা বজায় রেখে বাংলাদেশেও ই-কমার্স ব্যবসার প্রসার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে ই-কমার্স। সব কিছু একদম সহজলভ্য হওয়ার ফলে মানুষের এর প্রতি চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষ করে করনা মহামারীর শুরুর পর থেকেই ই-কমার্স বাণিজ্য আগের তুলনায় বর্তমানে সর্বত্র পৌঁছে গিয়েছে। যার ফলে তৈরি হচ্ছে নতুন সব উদ্যোক্তা। অনেকেই এই সেক্টরে এসে ব্যবসা করছে।

এর মধ্যে অনেকে হয়েছে সফল আবার অনেকে হয়েছে বিফল। যাদের সঠিক পরিকল্পনা এবং সঠিক প্ল্যান ছিলনা তারাই তাদের ব্যবসাকে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।

ই-কমার্স ব্যবসা হোক অথবা অন্য কোন ব্যবসা হোক, যদি না থাকে সঠিক পরিকল্পনা এবং সঠিক প্ল্যান, লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য তাহলে নিজের সফলতা কোন দিন অর্জন হয়না।

এই সেক্টরে নিজের সফলতা বাসবায়ন করতে ঠিক পরিকল্পনা এবং সঠিক প্ল্যান, লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য ঠিক রাখতে হবে।

কিভাবে ই-কমার্সে সফলতার জন্য সঠিকভাবে বিজনেস প্ল্যান করতে হয় এবং কিভাবে সফল হওয়া যায় সব কিছু বিস্তারিত আলোচনা করা হবে আজকের এই আর্টিকেলে।

আর্টিকেল সূচনা

ই-কমার্স ব্যবসা কি ?

ই কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন জানার আগে বাংলাদেশ ই-কমার্স ব্যবসা সম্পর্কে জেনেনিন।

ইন্টারনেট প্লাটফ্রম যাকে বলে অনলাইন, ব্যবহার করার মাধ্যমে যে ব্যবসা করা হয় তাকে ই-কমার্স ব্যবসা বলে।

ই-কমার্স বলতে ইলেক্টনিক কমার্স বা ব্যসাকে বোঝায়। এক কথায়, ইন্টারনেট ব্যবহার করে ব্যবসা করার মাধ্যমকে ই-কমার্স ব্যবসা বলে।

ইন্টারনেট ব্যবহার করার মাধ্যমে যদি কোন ধরণের লেনদেন করা হয় তাকেও ই-কমার্স ব্যবসা বলে। বর্তমান সময়ে পুরো বিশ্ব ধীরে ধীরে ই-কমার্সের আয়তায় চলে আসছে।

একসময় একটি পন্য ক্রয় করার প্রয়োজন হলে দোকান বা বাজারে যেতে হত।

কিন্তু এখন চাইলে হাতের মোবাইল ফোনটি দিয়ে লাখ লাখ পন্য দেখে নিজের পছন্দের পন্যটি অর্ডার করা যায়। ই-কমার্স হোক বা অন্য কোন কাজ, সেটি শুরু করার পূর্বে তার ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাটা খুব বেশী জরুরী।

আধিপত্য এবং বর্তমান অবস্থা সব বিষয়ে জানতে হয় কারণ একটি বিজনেস প্লান শুধু আইডিয়ার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠতে পারেনা।

ই-কমার্স ব্যবসার ইতিহাস

ই-বানিজ্য বা ই-কমার্স ব্যবসা সর্বপ্রথম আধিপত্য ঘটে ১৯৬০ সালে। ইলেকট্রনিক ডাটা ইন্টারচেঞ্জ (EDI) সর্বপ্রথম ই-কমার্স বানিজ্যের যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে প্রথম ই-কমার্স বাণিজ্য কোম্পানি Compuserve প্রতিষ্ঠিত করে ডাঃ জন আর। গোলটজ ও জেফ্রি উইকিন্স।

এর পর মাইকেল অ্যালড্রিচ ১৯৭৯ সালে ইলেক্ট্রনিক শপিং আবিস্কার করেন তাই তাকে ই-কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা বা জনক বলে বিবেচনা করা হয়। ১৯৮২ সালে ইকমার্স প্ল্যাটফর্মগুলির সূচনা ঘটে ইলেকট্রনিক্সে বস্টন কম্পিউটার এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে।

১৯৯২ সালের ৯০ এর দশকে বুক স্ট্যাকস আনলিমিটেড নামক বইয়ের দোকান প্রবর্তন করে চার্লস স্ট্যাক। এটি ছিল সেই সময়ের প্রথম স্টোর গুলোর মধ্যে একটি। এর পর ১৯৯৪ সালে ইন্টারনেট ব্রাউজার ব্যবহার করেন টুল মার্কস আন্দ্রেসেন এবং জিম ক্লার্ক। যেটির জন্য অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ব্যবহার করা হয় উইন্ডোজ।

১৯৯৫ সালে অ্যামাজন ও ইবে.কম প্রথম ই-কমার্স ওয়েবসাইট লঞ্চ করে যার ফলে ই-কমার্স বাণিজ্য আলাদা একটি রূপ নিয়ে সবার মাঝে হাজির হয়। মানুষের কেনাকাটার সুবিধার জন্য ১৯৯৮ সালে পেপ্যাল ই-কমার্সের জন্য প্রথম পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা চালু করে।

এর পর ১৯৯৯ সালে এসে আলিবাবা $২৫ মিলিয়ন ডলার ইনভেস্টের মাধ্যমে তাদের অনলাইন শপিং ব্যবসার যাত্রা শুরু করে। যা বর্তমানে বহুল জনপ্রিয় একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট। তারপর ২০০০ সালে গুগল তাদের অ্যাডভারটাইজিং সুবিধার জন্য গুগল অ্যাডওয়ার্ডস নামে প্রথম অনলাইন বিজ্ঞাপনের সরঞ্জাম চালু করে। যা বর্তমানে অনেক বেশী প্রয়োজনীয় এবং জনপ্রিয়।

এভাবেই ডিজিটাল কেনা-বেচা বা ই-কমার্স বাণিজ্য শুরু হয়। বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দেশের প্রেক্ষাপটে ই-কমার্সের প্রসার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ধারণা করা হয়, আগামীতে সব কিছু মানুষ ই-কমার্স দ্বারা ক্রয় করবে।

ই কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন

ই কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন বলতে যা বোঝায়, একটি ব্যবসার স্টার্টআপ কিভাবে হয়? কি কি বিষয় গুলো জানতে হয়? প্রথমে কি পরিমান ইনভেস্ট দরকার হতে পারে?

ব্যবসা করার জন্য আইডিয়া কিভাবে করতে হয়? দেশের মধ্যে ই-কমার্স ব্যবসার জন্য কি কি নিয়ম রয়েছে ইত্যাদি।

ই কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন বিষয়টি সম্পর্কে আমরা আসলে কি বুঝি বা কি জানি? এটি কিন্তু একটি প্রশ্ন হতে পারে।

একটি ব্যবসা বলুন বা বাণিজ্য বলুন শুরু করতে হলে তার প্রতিটি পার্ট একদম পরিস্কার ভাবে জানতে হয়।

ই-কমার্স ব্যবসা বলুন বা অন্য কোন ব্যবসা, কোন ধরণের প্ল্যানিং ছাড়া শুরু করে দিলে সেটিতে কোন দিন সফল হওয়া সম্ভব নয়। একটি ব্যবসার শুরু করার প্রথম ধাপই হচ্ছে প্ল্যানিং করা। ব্যবসার প্লানিং হচ্ছে এমন এটি বিষয় যা একটি ব্যবসা শুরু থেকে শেষ অব্দি কি কি করতে হবে সব কিছু।

আপনি যদি মনে করেন আজ ব্যবসা শুরু করে দিলাম কাল থেকেই আমি সফল তাহলে এখনই সব কিছু বাদ দিয়ে বসে থাকেন। একটি ব্যবসা শুরু করার পর অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয় তারপরই সফল হওয়া যায়।

আপনি যদি কোন ধরণের প্লানিং ছাড়া ব্যবসা শুরু করে দেন তাহলে সেটি হবে আপনার সব চাইতে বড় ভুল। এর কারণ হচ্ছে হুট-হাট করে কোন কিছু করলে সেটি বেশীদিন টিকতে পারেনা বা টেকা সম্ভব না। সব কিছুর জন্য চাই একটি দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা।

এই ব্যবসা মূলত ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি ব্যবসা। আপনি এই প্লাটফর্মে ব্যবসা করতে চাইলে অবশ্যই অনলাইন সম্পর্কে ধারণা অর্জন করে নিতে হবে। যদি কোন কিছু না জানেন তাহলে গুগল, ইউটিবের সাহায্য নিতে পারেন। তাই আপনি ই-কমার্স ব্যবসার জন্য সুন্দর একটি প্ল্যান তৈরি করার জন্য কিছু গাইডলাইন দেয়ার চেষ্টা করছি।

ই কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন মেনে চলতে চাইলে আপনাকে যে সমস্ত বিষয় ভালোভাবে জানতে হবে ও খেয়াল রাখতে হবে,

  • মানসিক ভাবে প্রস্তুতি গ্রহন
  • প্রতিষ্ঠানের নাম কি হবে?
  • আইনি আদেশ নিষেধ/ ই-কমার্স নীতিমালা
  • পন্য সিলেক্ট / পন্য নির্বাচন
  • প্রডাক্ট সোর্স
  • ডেলিভারি ( ক্যাশ অন ডেলিভারি )
  • ডেলিভারি সিস্টেম
  • পেমেন্ট সিস্টেম
  • অনলাইন মার্কেটিং
  • একটি টিম বিল্ডিং
  • স্মার্ট বিজনেস প্ল্যান তৈরি
  • ই-কমার্স ওয়েবসাইট কি?
  • ওয়েবসাইট তৈরি
  • ওয়েবসাইটে প্রডাক্ট কিভাবে থাকে?
  • ডেলিভারি কিভাবে করতে হয়?
  • কিভাবে পেমেন্ট গ্রহন করতে হয়?
  • ওয়েবসাইট মেইনটেইন কিভাবে করতে হয়?
  • কি পরিমান জনবলের দরকার হয়?
  • ওয়েবসাইট কিভাবে সাজালে সুন্দর দেখা যাবে?
  • গ্রাহক কোন কিছু কিভাবে অর্ডার করছে?
  • কিভাবে পেমেন্ট গ্রহন করবেন?
  • অফার এবং ছাড় এর জন্য বিশেষ সময় কোনটি?
  • আপনি কোন ধরণের পন্য বিক্রি করতে চান? ইত্যাদি

আপনাকে সব ধরণের পরিকল্পনা বা প্ল্যান আগে থেকেই সাজিয়ে নিতে হবে। যে কোন কিছুতে সফলতা অর্জন কিন্তু এক দুই দিনে হয়না। এর জন্য ধীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা, সঠিক সিদ্ধান্ত, কঠর পরিশ্রম এবং বাস্তবায়ন করতে হয়। ই-কমার্স ব্যবসার ক্ষেত্রে সেটি একই। ধৈর্য ধরুন, লেগে থাকুন একদিন সফলতা আসবেই। ইনশাআল্লাহ

একটি ব্যবসা শুরু করার পূর্বে অনেক বিষয় সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে হয়। তাই আজকের এই ই-কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন মেনে চলার জন্য ব্যসিক কিছু বিস্তারিত আলোচনা করা হবে আপনি শুধু কষ্ট করে পড়তে থাকুন।

একটি বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে সেই বিস্যের সমস্ত কিছু বিস্তারিতভাবে জেনে নিলে বিষয় গুলো অনেক বেশী সহজ মনে হয়। তাই ই কমার্স ব্যবসার গাইডলাইন গুলো একটি কাগজে লিখে রাখুন।

মানসিক প্রস্তুতি গ্রহন

দেখুন, আপনি ই-কমার্স ব্যবসা বলুন অথবা অন্য কোনো ব্যবসা আপনাকে কিন্তু মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতেই হবে। দেখুন একটি কাজ শুরু করতে গেলে সেখানে প্রচুর পরিমাণে বাধা বিপত্তি তৈরি হতেই পারে।

কিন্তু আপনি যদি ভেঙ্গে পড়েন তাহলে কিন্তু সেই কাজ শেষ করতে পারবেননা। অনেক সময় দেখা যায় ব্যবসা করার সময় অনেক ক্ষেত্রে লসের মুখ দেখতে হয় তাছাড়াও আনুসাংগিক অনেক ধরণের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এমনও হতে পারে প্রথম দিকে আপনার তেমন সেল আসবেনা আর যদি সেল না আসে তাহলে কিন্তু লাভ হবেনা। তাই বলে ছেড়ে দিয়েও চলে যাওয়া যাবেনা। তাই আগে থেকেই সমস্ত পরিস্থিতি মেনে নেয়ার জন্য নিজিকে প্রস্তুত রাখতেই হবে।

প্রতিষ্ঠানের নামকরণ

ব্যবসা করার জন্য সেটি যে কোম্পানি হোক তার সঠিক একটি নামকরণ করতে হবে। যে একজন ব্যক্তিকে চিনতে হলে তার নাম জানতে হবে এবং নিজেকে সেই নামের মাধ্যমেই সব যায়গায় পরিচিত করে তোলা হয়।

তাই আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য সঠিক একটি নাম বুঝে নিবেন। আপনাকে এমন একটি নাম বেঁছে নিতে হবে যেন সেই নাম কেও একবার দেখলেই মনে রাখতে পারে। আর যেটির নাম মানুষের বেশী মনে থাকে সেটি গুগলে সার্চ করবে এটাই স্বাভাবিক। আপনার উচিৎ হবে প্রথমেই ভালো একটি নাম খুঁজে বেড় করে রাখা।

বাংলাদেশ ই-কমার্স নীতিমালা

ব্যবসার জন্য প্লান সাজানোর পূর্বে জানতে হবে বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসার করার জন্য কি কি আইন রয়েছে। আইন না মেনে প্লান তৈরি করলেও ব্যবসা কিন্তু টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। কারণ একটি বিজনেস প্লানে ব্যবসার আধিপত্য থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎ সব কিছু থাকে তাই আইন গুলো থাকতে হবে।

ই-কমার্সকে ব্যবসা সঠিক নিয়মে চলার জন্য ২০২১ সালে একটি নীতিমালা করে বাংলাদেশ সরকার কর্তিক ণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ। এই নীতিমালা নির্ধারণের মূল কারণ হচ্ছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গুলো স্বচ্ছ, দায়বদ্ধতা এবং জবাবদিহি করতে পারে।

নীতিমালার মধ্যে রয়েছে,
  • যেকোনো পন্য অনলাইন প্লাটফর্মে পাবলিশ করার সময় সেই পন্যের সব ধরণের তথ্য যুক্ত করে দিতে হবে।
  • যেমন, শর্তাবলি, পণ্যের দাম, সরবরাহ, ডেলিভারির সময়সীমা নির্ধারন এবং পন্য পরিবর্তনের নিয়ম।
  • ডিজিটাল কমার্সের মাধ্যমে মাল্টি লেভেল ব্যবসা ও মার্কেটিং করা থেকে সমপূর্ন বিরত থাকতে হবে।
  • কোন ধরনের মাদক অথাবা নেশাদার পন্য বিক্রি করা যাবে না।
  • গ্রাহকের কোন ধরণের তথ্য সংগ্রহ করার দরকার হলে প্রথমে গ্রাহকের কাছে থেকে অনুমতি নিতে হবে।
  • ঔষধ জাতিয় যাবতীয় পন্য বিক্রি করার জন্য ঔষধ প্রশাসনের কাছে থেকে আগে থেকে অনুমতি নিয়ে নিতে হবে নতুবা কেও ডিজিটাল মার্কেট প্লেসে কোন ধরনের ঔষধ বিক্রি করতে পারবে না।
  • যে সমস্ত পন্য অর্থের বিনিময়ে ব্যবহৃত হয় যেমন কোন ধরনের ভাউচার, গুগল প্লেকার্ড, ক্যাশ ভাউচার ইত্যাদি বিক্রির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমতি নিতে হবে।
  • এমনকি সাত দিনের মধ্যে প্রডাক্ট ডেলিভারি বা হস্তান্তর না করলে জরিমানা দিতে হবে।
  • ডিজিটাল মাধ্যমে কোন অর্থের ব্যবসা করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে।
  • প্রতিটি ডিজিটাল ব্যবসায়ীকে লাইসেন্স প্রাপ্ত হতে হবে যেমন তাঁর থাকতে হবে, টিআইএন সার্টিফিকেট, ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট নিবন্ধন, পিআরএ, ইউবিআইডি ।

এই আইন গুলো অমান্য করলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ অথবা জরিমানার শিকার হতে পারেন। তাই আগে থেকেই জেনে নিন সবকিছু।

একটি স্মার্ট বিজনেস প্ল্যান

ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান এর জন্য কিভাবে একটি একটি স্মার্ট বিজনেস প্ল্যান তৈরি করতে হয় সেটি ধাপে ধাপে আলোচনা করা হবে। নীতিমালার পরের ধাপ হচ্ছে ব্যবসায়ের জন্য প্লান সাজানো। বর্তমান সময় যেহেতু অনেক প্রতিযোগিতার তাই আপনার প্লান্টি হবে হবে স্মার্ট।

এই সময়ে এসে যদি ৯০ দশকের প্লান সাজানো হয় তাহলে কিন্তু ব্যবসা অল্প দিনে বন্ধ করে দ্যে সব কিছু গুটিয়ে বাড়িতে বসে থাকতে বাধ্যে হতে হবে। তাহলে একটি স্মার্ট প্লান কিভাবে সাজাতে হবে তার একটি ধারণা নেয়া যাক,

প্রথমেই যে কাজটি করতে হয় সেটি হচ্ছে ই-কমার্স ব্যবসার জন্য ভালো একটি আইডিয়া জেনারেট করতে হবে। অনলাইন প্লাটফর্ম গুলোতে লাখ লাখ প্রডাক্ট রয়েছে যেগুলোর মধ্যে প্রায় সব গুলোর চাহিদা অনেক।

যদি বাংলাদেশের বহুল পরিচিত ই-কমার্স ওয়েবসাইট দারাজের দিকে দেখা যায়, দেখবেন সেখানে লাখ লাখ প্রডাক্ট অ্যাড করা আছে। বিভিন্ন সেলার সেখানে তাদের প্রডাক্ট বিক্রি করছে।

এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় রয়েছে, সেটি হচ্ছে দারাজে কিন্তু সেলার তাদের প্রডাক্ট অ্যাড করে এবং যদি সেল হয় তারা নিজেরা সব কিছু করে দারাজের কাছে পৌঁছে দেয় এবং পরিবর্তীতে দারাজ সেটি ডেলিভারি করে কমিশন নিয়ে থাকে।

পন্য নির্বাচন

দেখুন ব্যবসা করার জন্য আপনাকে সঠিক পন্যটি বেঁছে নিতে হবে। বর্তমানে ই-কমার্স ব্যবসার ক্ষেত্রে কোন পন্য গুলো মানুষ বেশী ক্রয় করে থাকে সেটি অবশ্যই লক্ষ্য করতে হবে।

ভালো হয় আপনি প্রথমে যেকোনো একটি ক্যাটাগরির পন্য নিয়ে কাজ শুরু করে দিলে। যেমন হতে পারে সানগ্লাস, জিন্স প্যান্ট, টি-শার্ট, শার্ট, থ্রি-পিচ ইত্যাদি পন্য থেকে যেকোনো একটি পন্য বেঁছে নিয়ে ব্যবসা শুরু করে দিতে পারেন।

পন্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনাকে অনেক বেশী ক্রিয়েটিভ এবং বিচক্ষন হতে হবে। সেই পন্য বেশী বিক্রি করতে পারবেন সেই পন্য গুলো নিয়েই ব্যবসা শুরু করে দিতে পারেন। তাহলেই খুব তাড়াতাড়ি প্রফিট করতে পারবেন।

প্রডাক্ট সোর্স

পন্য নির্বাচন করার পরেই সেটিকে সোর্সিং করতে হয় তাই আপানকে একটু খোঁজ নিতে হবে কোথা থেকে আপনি কম দামে ভালো পন্য কিনতে পারবেন। আর অনলাইন মার্কেটপ্লেসে টিকে থাকতে হলে সঠিক এবং ভালো পন্যটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে হয়।

আপনি গুলিস্থান, চকবাজারের মত জায়গা থেকে খুব সহজেই সব ধরণের পন্য পাইকারি মূল্যে কিনে নিয়ে আসতে পারবেন। তাছাড়াও আপনি গুগল এবং ইউটিউব থেকে একটু খুঁজে দেখলে অনায়াসে ভালো ভালো পাইকারি সেলারের ঠিকানা পেয়ে যাবেন বলে আশা করছি। আবারো বলছি প্রডাক্ট সোর্সিং এর সময় অনেক বেশী খেয়াল রাখতে হবে। যেকোনো পন্য গ্রাহকের কাছে দেয়া যাবেনা।

সঠিক সময়ে পন্য ডেলিভারি

ই-কমার্স ব্যবসায় সফলতা অর্জন করার জন্য সঠিক সময়ে পন্য সরবরাহ অনেক গুরুত্ব পূর্ন একটি বিষয়। সঠিক সময়ে পন্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিলে সেই গ্রাহক আপনার কাছেই বার বার পন্য ক্রয় করতে আগ্রহি থাকবে। এতে ব্যবসার প্রসার অনেক বৃদ্ধি পাবে। মনে রাখবেন একটি ব্যবসা উন্নতি করতে হলে গ্রাহকের বিশ্বাস অর্জন করা খুবই প্রয়োজনীয়।

সঠিক পন্য পৌঁছে দেয়া

গ্রাহক যে পন্য অর্ডার করবে সেই পন্য গ্রাহককে পৌঁছে দিতে হবে। যেমন একজন গ্রাহক M সাইজের একটি কালো টি-শার্ট অর্ডার করলো কিন্তু আপনি তাকে দিলে XL সাইজের সাদা টি-শার্ট। এর ফলে গ্রাহক দ্বিতীয়বার আপনার কাছে থেকে কোন ধরণের পন্য ক্রয় করবে না। তাই এই দিকে আপনাকে অনেক বেশী নজরদারি করতে হবে।

প্রডাক্ট শেষ হয়ে গেলে গ্রাহককে কল করে বলে দিবেন। সে যদি অন্য কোন কালারের কিছু নিতে চায় তাহলে পাঠিয়ে দিবেন সেটি যদি না হয় তাহলে গ্রাহককে বুঝিয়ে অর্ডার বাতিল করিয়ে নিবেন। এতে গ্রাহক আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনেক বিশ্বাস করবে এবং অন্য প্রডাক্ট অর্ডার করবে।

পন্য পাঠানো

অতিরিক্ত কুরিয়ার সার্ভিস না নিয়ে সঠিক পরিমানে নিতে হবে এবং সঠিক সময়ে পন্য পৌঁছে দিতে হবে। এর ফলে গ্রাহক আপনার কাছে থেকে বার বার পন্য ক্রয় করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে।

বাংলাদেশে অনেক কুরিয়ার সার্ভিস রয়েছে যারা প্রডাক্ট সারা দেশে পৌঁছে দিয়ে থাকে। আপনি তাদের সাথে চুক্তি বদ্ধ হতে পারেন।

মনোযোগ সহকারে পড়ুন: তাদের ব্যবসা ক্যাটাগরি কিন্তু আলাদা। নিজে যদি একটি ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করা যায়, যেখানে নিজেই প্রডাক্ট সোর্স করবেন এবং নিজেই সেটি সেল করবেন। এর জন্য এমন কিছু প্রডাক্ট বেঁছে নিতে হবে যেটি প্রায় সব মানুষের কাছে অনেক বেশী জনপ্রিয় এবং সেল অনেক বেশী হয়।

এখন মূল কথা হচ্ছে ব্যবসার জন্য আইডিয়া অর্থাৎ প্রডাক্ট আইডিয়া কিভাবে করবেন। একটি বিষয় সব সময় খেয়াল রাখতে হবে দেশের বাজারে কোন প্রডাক্ট গুলো অ্যাভাইলেবল আছে? মানুষের চাহিদা কোনটির উপরে বেশী এবং কোন প্রডাক্ট গুলো সেল করে লাভবান হওয়া যাবে।

বিশেষ ক্ষেত্রে যদি বলা যায় তাহলে সিঙ্গেল একটি প্রডাক্ট নিয়ে প্রথমে কাজ শুরু করতে পারলে মানুষের কাছে পরিচিত হতে অনেক বেশী কষ্ট করতে হয়না।

যেমন, লুনটেস্ট এর ওয়েবসাইট ব্রাউজ করলে দেখা যায় তারা শুধু একটি মাত্র প্রডাক্ট চশমা নিয়ে কাজ করছে। প্রডাক্ট একটি কিন্তু তার ক্যাটাগরি অনেক।

সাধারণ ভাবে যদি আইডিয়ার কথা বলি তাহলে যে সমস্ত প্রডাক্ট রয়েছে তার মধ্যে আছে শিশু প্রডাক্ট। দেশের বাজারে শিশুদের প্রডাক্ট চাহিদা অনেক বেশী। আপনাকে শুধু প্লান তৈরি করার পূর্বে একদম স্মার্টলি চিন্তা করতে হবে দেশের বাজারে কোন প্রডাক্ট রয়েছে যেটি নিয়ে কাজ করলে খুব তাড়াতাড়ি গ্রো করা যাবে।

ওয়েবসাইট তৈরি

ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান তৈরি করছেন আর ওয়েবসাইট নেই তাহলে কি হয়? ই-কমার্স ব্যবসা করতে হলে প্রথমেই একটি সাবলিল এবং সুন্দর ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে হবে। আপনি যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করলে হবেনা। যেকোনো গ্রাহক যেন সেটি পছন্দ করে তার দিকে আপনাকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

ওয়েবসাইট এমন হতে হবে যেন মোবাইল, কম্পিউটার, ট্যাবলেট, ম্যাকবুক সব ধরণের ডিভাইসে ভালো দেখায় এবং গ্রাহক যেন সহজেই সেটি ব্রাউজ এবং প্রডাক্ট অর্ডার করতে পারে। ওয়েবসাইটের পাশাপাশি অ্যাপ থাকলে অনেক ভালো হয়।

ই কমার্স ওয়েবসাইট খরচ

অনলাইনে যেকোনো প্রডাক্ট বিক্রি করতে হলে প্রথমেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে, যেখানে পন্য গুলো আপলোড করে রাখা হবে এবং গ্রাহক সেটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে তার পছন্দের পন্যটি ক্রয় করতে পারবে।

ই-কমার্স ব্যসার পরিচয় বহন করে সেই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট। কোন ভোক্তা ব্যবসার মালিককে খুজতে যাবেনা। অনলাইনে যে ওয়েবসাইট পাবে সেখান থেকেই তারা পন্য ক্রয় করবে। সাধারণ ওয়েবসাইট গুলোর চাইতে ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলো অনেক ভিন্ন হয়ে থাকে। এর কারণ সাধারণ ওয়েবসাইটে ছবি, ভিডিও এবং কনটেন্ট থাকে।

আপনি এইযে, ওয়েবসাইট থেকে আর্টিকেলটি পড়ছেন এটি একটি ব্লগ ওয়েবসাইট। এটি তৈরি করতে প্রথমে ২৫০০ টাকার মত খরচ হয়ে থাকে। কিন্তু ই-কমার্স ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে সেটি একদম ভিন্ন।

একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটে প্রডাক্ট আপলোড থেকে শুরু করে সেই প্রডাক্টের ডিটেইলস, ভাউচার, ইউজার রেজিস্ট্রেশন, অর্ডার নোটিফিকেশন, ডেলিভারি রিপোর্ট ইত্যাদি ফাংশনালিটি যুক্ত করতে হয়।

যেটি করতে ওয়েবডেভেলপার হায়ার করার দরকার হয়ে থাকে। বাংলাদেশে অনেক ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি রয়েছে যাদের কাছে থেকে আপনি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারবেন।

ই-কমার্স ওয়েবসাইটের উপর ভিত্তি করে সাধারণ দাম নির্ধারণ হয় থাকে। যেমন ২০ থেকে ৩০ হাজার শুধু ধারণা মাত্র,এর চাইতে কম-বেশী হতে পারে। আপনি বাংলাদেশের অতি পরিচিত এবং প্রফেশনাল ওয়েব ডেভেলমেন্ট কোম্পানি গ্রোবিগ এর কাছে থেকে আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারবেন।

তাদের সাথে যোগাযোগ করলেই কেমন খরচ হতে পারে সেটি জেনে নিতে পারবেন। তাদের ওয়েবসাইট থেকে যোগাযোগ করতে পারবেন।

ই কমার্স ওয়েবসাইট খরচ ২

ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ড ডেভেলপার ব্যতীত করা সম্ভব। কিন্তু এটি করতে হলে ওয়েবসাইট সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

এ ক্ষেত্রে আপনাকে ডোমেইন এবং হস্টিং এর জন্য কিছু টাকা ব্যয় করতে হবে। তারপর একটি থিম কিনতে হবে এবং প্রফেশনাল কাওকে দিয়ে সব কিছু সেটাপ করে নিতে হবে অথবা নিজে করে নিতে হবে।

নিজে জানলে বেশী টাকা খরচ হবেনা। ধারণা করা যায়, কোন ডেভেলপার দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি না করে নিজে নিজে তৈরি করলে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। কিন্তু আপনি নিজে ই-কমার্স ওয়েবসাইট বিল্ড বা তৈরি করলে সব ধরণের ফিচার পাবেননা।

তাই একটি ই-কমার্স ব্যবসা ভালোভাবে পরিচালনা করতে হলে আপনাকে ডেভেলপার দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে হবে।

ফ্রি ই-কমার্স

ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান করতে আপনি ফ্রি কমার্স রাখতে পারেন। একটি বিজনেস স্ট্যাটেজি গড়ে উঠে শুধু মাত্র লাখ টাকা খরচ করার মাধ্যমে নয়। আপনি ফেসবুক ব্রাউজ করলে দেখতে পাবেন অনেক প্রতিষ্ঠানের অ্যাড আসছে। সেই সমস্ত অ্যাড ফেসবুক পেজ প্রমোশনের জন্য দেয়া হয়। এর জন্য ব্যাসিক কিছু টাকা খরচ হয়।

যখন আপনি পেজটি মানুষের কাছে পরিচিত করতে সক্ষম হবেন তখন কোন ধরণের প্রমোশন ছাড়াই মানুষ সেটিতে প্রবেশ করে। একটি ব্যবসার স্ট্রাটাপ শুরু করতে হলে প্রথমে ফেসবুকে একটি পেজ ক্রিয়েট করে সেখানে প্রডাক্ট আপলোড করে অ্যাড প্রমোশন দিলেই প্রডাক্ট সেল হওয়া শুরু হবে।

ফেসবুক এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে সম্পূর্ণ ফ্রিতে একটি ই-কমার্স শপ তৈরি করা যায় যাকে বলা হয় এফ-কমার্স বা ফেসবুক কমার্স। আপনি চাইলে ফেসবুক পেজে নিজের একটি ফ্রি শপ তৈরি করে অথবা পেজে প্রডাক্ট আপলোড এবং লাইভ পারফর্মেন্স এর মাধ্যমে ফ্রিতে প্রডাক্ট সেল করতে পারবেন।

যেভাবে একটি ফেসবুক বিজনেস পেজ তৈরি করতে হয় ভিডিওতে দেখুন,

ফেসবুক থেকে বিজনেস পেজ তৈরি করার পর সেখানে একটি শপ তৈরি করতে হয় এবং সেই শপে প্রডাক্ট আপলোড করতে হয়। সম্পুর্ন প্রসেস দেখতে হলে আপনাকে ইউটিউব প্লেলিস্ট দেখতে হবে। প্লেলিস্ট দেখুন

ওয়েবসাইট মার্কেটিং

আপনাকে অবশ্যই আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট মার্কেটিং করতে হবে। কারণ মার্কেটিং না করলে কেও আপনাকে চিনবেনা।না চিনলে প্রডাক্ট কি ক্রয় করবে? ওয়েবসাইট মার্কেটিং এর জন্য আপনি ফেসবুক পেজ বুস্ট, গুগল অ্যাড, ইউটিউব অ্যাড, ই-মেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে সহজেই করতে পারবেন।

বর্তমান ডিজিটাল প্লাটফর্ম, মার্কেটিং করতে তেমন বেশী কষ্ট করতে হয়না। শুধু মার্কেট রিসার্চ করলেই হয়ে যাবে। গুগুল থেকে মার্কেটিং করলে গুগল নিজেই সব কিছু অটোমেটিক করে দিবে।

গ্রাহক অপরচুনিটি

গ্রাহকদেরকে আকৃষ্ট করার জন্য আপনার ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরণের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করলে অনেক ভালো হয়। তারা যেন অনলাইন থেকে কেনা কাটা করতে সকল ধরণের সুবিধা পায় তার উপরে খেয়াল রাখতে হবে।

বিজনেস টেকনিক

প্রতিটি ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য অনেক ধরণের টেকনিক রয়েছে। যেমন ব্যবসার জন্য সঠিক ভাবে মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়?

বর্তমান সময়ে আপনার ব্যবসার প্রতিদ্বন্দ্বী কে কে রয়েছে? তারা তাদের ব্যবসা কিভাবে পরিচালনা করছে? তাদের মার্কেটিং স্ট্যাটেজি গুলো কি কি? সব কিছু আপনাকে সংগ্রহ করে করে নোট করে রাখতে হবে।

একটি ব্যবসার উন্নতি তখনি হয় যখন তারা মানুষের চাহিদা অনুযায়ী প্রডাক্ট গুলো সরবরাহ করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন হয় মার্কেট রিসার্চ। যেমন কোন ধরণের প্রডাক্টের প্রতি মানুষের অনেক বেশী চাহিদা রয়েছে এবং কেমন দামের প্রডাক্ট বেশী বিক্রি হয়? সব কিছু রিসার্চ করতে হবে।

তালিকা করলে দেখা যায়,

  • মানুষিক প্রস্তুতি
  • মার্কেটিং
  • বিজনেস আইডিয়া
  • বিজনেস প্লান ( যেটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে )
  • কাছের মানুষের কাছে প্রডাক্ট বিক্রি
  • লার্ন কুইকলি, এডজাস্ট কুইকলি
  • শুরুতেই অনেক বেশী না চাওয়া
  • লাভ বা ক্ষতি
  • ব্যবসায়ের নাম নির্ধারণ

ই কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন ফলো করতে বিশেষ টেকনিক বর্ণনা ১

মানসিক প্রস্তুতিঃ ব্যবসা করার জন্য প্রথমেই আপনার মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করে শেষ অব্দি সফল হওয়াটা অনেক বেশী কষ্ট সাধ্য ব্যপার। অনেকেই আছেন যারা অন্যের সফলতা দেখে কিছু একটা শুরু করে। কিন্তু কাজ এবং কষ্ট করার অলসতার ফলে সে কোন দিন সফলতার মুখ দেখতে পায়না।

একজন চাকরিজীবী যখন চাকরি করে তখন কিন্তু সব টুকু দিয়ে কাজ করে যেতে হয়। তাই আপনার প্রথমেই কাজ এবং কষ্ট করার পাশাপাশি অনেক বেশী ধৈর্যশীল হতে হবে। আর আপনি যদি মানসিক ভাবে প্রস্তুত না থাকেন তাহলে ব্যবসা আপনার জন্য না।

মার্কেটিংঃ একটি ব্যবসার প্রতিষ্ঠান ছোট থেকে বড় হওয়ার পেছনে সব চাইতে বড় ভূমিকা রাখে মার্কেটিং।

নিজের প্রডাক্ট গুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রথমেই মার্কেটিং স্ট্যাটেজি ফলো করতে হবে তা না হলে মানুষ চিনবে কি করে। যত বেশী পারেন প্রচার করতে করেন। বাংলায় একটি কথা আছে প্রচারেই প্রসার। ফেসবুক সহ গুগল, ইউটিউবে কিছু টাকা পয়সা খরচ করে আপনাকে মার্কেটিং করতে হবে।

মার্কেটিং করার প্রথম ধাপে কোন ধরণের বিক্রি নাও হতে পারে। এর কারণ আপনাকে কেও চিনেনা। যখন প্রচার করতে করতে পরিচিত হতে পারবেন তখন আর আপনাকে পিছে ফিরে তাকাতে হবেনা।

বিজনেস আইডিয়াঃ বিজনেসের জন্য যদি সঠিক আইডিয়া খুজে বের করতে না পারেন তাহলে কিন্তু অচিরেই বিফল হয়ে যাবেন। ই-কমার্স ব্যবসার জন্য আইডিয়া গুলো কিভাবে করবেন আগে থেকেই একটি লিংক দেয়া আছে সেখান থেকে দেখে নিবেন।

আর যদি মনে করেন দেখতে হবেনা তাহলে কিন্তু আপনি এখনই বিফল। কারণ আগেই বলেছি ব্যবসা করতে চাইলে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখতে হবে।

বিজনেস প্লানঃ বিজনেসের জন্য প্রথম কাজটি হচ্ছে একটি প্লান সাজানো। আপনি এই আর্টিকেল পড়লেই একটি প্লান সাজিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু, শুধু প্লান সাজাবেন কিভাবে এটি নিয়ে পরে থাকলে ব্যবসা শুরু করা হবেনা। তাই আজ থেকেই প্লান সাজাতে শুরু করুন এবং ব্যবসা শুরু করে দিন। পরে অনেক ভাবে আপনার ই-কমার্স বিজনেস প্লান সাজিয়ে নিতে পারবেন। প্রথমে শুরু

ই কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন ফলো করতে বিশেষ টেকনিক বর্ণনা

কাছের মানুষের কাছে প্রডাক্ট বিক্রিঃ প্রথমেই আপনার কাছের মানুষের কাছে প্রডাক্ট বিক্রি শুরু করুন। ভালো প্রডাক্ট দিলে তারাই মুখে মুখে আপনার প্রচার করে দিবে এতে কোন টাকা লাগবেনা।

লার্ন কুইকলি, এডজাস্ট কুইকলিঃ নিজের ব্যবসা কিভাবে সফল করা যায় সেটি নিয়ে আপনাকে শিক্ষা অর্জন করতে হবে। এর মানে হচ্ছে মানুষ কি ধরণের প্রডাক্ট চায়, মানুষের চাহিদা কি, কোন সময় কিসের ট্রেন্ড চলছে সব কিছু এডজাস্ট অর্থাৎ আপডেট রাখতে হবে।

শুরতেই অনেক বেশী না চাওয়াঃ অনেকেই আছেন যারা ব্যাবসা শুরু করতে না করতে অনেক বেশী চেয়ে ফেলে। যেমন শুরুতেই অনেক বেশী সেল হতে হবে, প্রথমেই অনেক বেশী গ্রাহক লাগবে, অন্যরা যে সমস্ত প্রডাক্ট বিক্রি করছে সেগুলো বিক্রি করবো ইত্যাদি।

এগুলো থেকে আপনাকে দূরে থাকতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার কাস্টমার সার্ভিস ব্যবসার এটি মেইন বিষয়। সঠিক প্রডাক্ট এবং কাস্টমার সার্ভিস ভালো দিতে পারলে এমনিতেই একদিন আপনি সফল হতে পারবেন।

লাভ বা ক্ষতিঃ ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান করার সময় এই বিষয়টি অনেক বেশী লক্ষ্যনীয়। একটি ব্যবসার ক্ষেত্রে লাভ বা ক্ষতি একটি সাধারণ একটি বিষয়। আপনি যদি অধিক লাভের আশায় অতিরিক্ত দামে প্রডাক্ট বিক্রি করেন মানুষ কিন্তু আপনার কাছে আসবে না। তাই সাধ্যের মধ্যে লাভ রেখে প্রডাক্ট বিক্রি করতে হবে। ক্ষতির বিষয় হচ্ছে, একটি প্রতিষ্ঠান চলা কারলিন ক্ষতি হতেই পারে। তাই বলে থেমে থাকা যাবে না। মনে রাখবেন থেমে গেলেন তো হেরে গেলেন।

ব্যবসায়ের নাম নির্ধারণঃ ব্যবসায়ের জন্য এমন একটি নাম সিলেক্টি করুন যেটি মানুষ একবার দেখলেই মনে রাখতে পারে। তাই বলে নাম নির্ধারণের পেছনে পরে থাকবেন না। আপনি ভালো সার্ভিস দিলে যেকোনো মানুষ আপনার কাছেই ফিরে আসবে। তারপরেও নামের প্রতি একটু ফোকাস দেয়া জরুরী।

ই-কমার্স লাইসেন্স

আপনি আপনার বিজনেস প্লান সাজানোর আগে বা পরে প্রতিষ্ঠানের নামে একটি লাইসেন্স করে নিতে হবে। একটি বিজনেস লাইসেন্স মানেই আপনি একজন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। লাইসেন্স না করে ব্যবসা শুরু করা যাবেনা।

আশা করছি আপনি সব ধরণের তথ্য জেনে গিয়েছেন এই আর্টিকেল থেকে। পরিশেষে একটি কথা, যে সমস্ত লিংক গুলো অ্যাডজাস্ট করা আছে সেগুলো যদি না দেখেন তাহলে কিন্তু আপনি বিভিন্ন তথ্য পাওয়া থেকে বিরত থাকেবন। একটি বিজনেস শুরু করার পূর্বে সেটি সম্পর্কে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করতে হয় এবং ই-কমার্স বিজনেস প্ল্যান কিভাবে করতে হয় সব কিছু জেনে গিয়েছেন।

কোন কিছু বাদ পরে গেলে পূনরায় পড়ে নিবেন তাতে আপনারই উপকার হবে। মনে রাখবেন একটি সফল ব্যবসার উঠে দাঁড়ানোর পেছনে রয়েছে সৎ কর্ম, কঠোর পরিশ্রম, প্রচেষ্টা ধৈর্য শক্তি, লেগে থাকা।

আপনি যদি অধ্যাবসয়ায় করতে পারেন তাহলে আপনি সফল হবেন একদিন। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে একবার না পারিলে দেখ শতবার। এই প্রবাদের অর্থ হচ্ছে যেকোনো কাজ শুরু করার পূর্বে বিফলতা আস্তেই পারে। তাই বলে থেমে থাকা যাবেনা।

জেভাবেই হোক লেগে থেকে কাজ করে যেতে হবে। নিজের ক্যারিয়ার নিজে কিভাবে সফল করবেন সেটি আপনার নিতান্তই ব্যাক্তিগত ব্যপার। স্বপ্ন এমন ভাবে দেখতে শিখুন যেটি সফল হলে আপনাকে মানুষ মনেক রাখবে।

সামাজিক ব্যাঘাত থেকে দূরে থাকতে হবে

মনে রাখবেন আপনি যখন কোন কাজ শুরু করবেন আপনার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আপনাকে আটকানোর জন্য বলে থাকবে এটি করার দরকার নেই। দেখছো যে, অমুক কোম্পানি কিভাবে শেষ হয়ে গেলো।

তোমার কিন্তু এমন হবে। এই সমস্ত কথা যারা বলে তাদের থেকে সব সময় দূরে থেকে নিজের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। যারা মূলত নিজে কিছু করতে পারেনা তারাই অন্যকে করতে দিতে চায়না।

আপনার ক্যারিয়ার আপনাকে সাজাতে হবে। তাই সব সময় নিজের স্বপ্ন পূরন করার লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে হবে। এই কথা গুলো বলার কারণ হচ্ছে, এমন প্রায় সবার মাঝেই ঘটে থাকে।

শেষ কথা

ই কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন নিয়ে আজকের প্রতিবেদন এখানেই শেষ। আশা করছি আপনি ই-কমার্স ব্যবসা করার জন্য কি কি করতে হয় তার একটি ব্যাসিক ধারণা পেয়ে গিয়েছেন। আপনি একটি নোট বেড় করে সেখানে পয়েন্ট কালেক্ট করুন এবং সেগুলো গুগল থেকে সার্চ করে আরও বেশী জেনেনিন।

আজকের এই আর্টিকেলে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি সমস্ত তথ্য গুলো তুলে ধরার জন্য। বেশী কিছু নয় আপনার একটি কমেন্ট এবং শেয়ার আশা করছি। হয়ত আপনার একটি শেয়ারে অনেকে এই মূল্যবান তথ্য গুলো পেতে পারবেন। ই কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন ইতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *