ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট শিখে মাসে লাখ টাকা আয়

ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিষয়টি যখনই আমাদের কারো মাথায় আসে তখন কয়েকটি চিন্তা মাথায় আশে তার মধ্যে রয়েছে এই ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিষয়টি আসলে কি? কিভাবে শিখতে হয় এবং শিখলে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার কেমন হবে সেই সাথে কত টাকা ইনকাম করা যাবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

হয়ত আপনি কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী নয়ত ইউটিউব বা কোন এক মাধ্যম থেকে এই বিষয়টি জেনেছেন আর তারই ধাঁরা বজায় রেখে ইন্টারনেটে সার্চ করছেন আর আপনি একদম সঠিক আর্টিকেলটিতেই ক্লিক করে দিয়েছেন।

আপনি আজ এই আর্টিকেল থেকে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে সমস্ত কিছুই একদম পরিষ্কার ভাবে শিখতে পারবেন এবং যে সমস্ত বিষয় নিয়ে জানার দরকার সমস্ত কিছুই জানতে পারবেন।

ওয়েব ডিজাইন শিখতে কি কি জানতে হবে এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখতে কি কি জানতে হবে ও সেই সাথে এটি শিখলে ভবিষ্যৎ কেমন সম্ভাবনা হবে সমস্ত বিষয় নিয়েই আজকের আর্টিকেল সাজানো হয়েছে। আপনাকে শুধু একটু ধৈর্য সহকারে পড়তে হবে।

ওয়েব সাইট কাকে বলে?

ওয়েবসাইট বলতে যেখানে বিভিন্ন ধরণের টেক্সট, ইমেজ, অডিও ভিডিও বিভিন্ন কিছু অ্যাড করা যায় এবং চাইলেই যেকোনো ব্যাক্তি ইন্টারনেট এর মাধ্যমে তার মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে দেখতে পারে, শুনতে পারে।

ওয়েবসাইটকে মূলত ভার্চুয়াল একটি কনটেন্ট মাধ্যম বলা যেতে পারে। উদাহরণ দিতে যদি যাই তাহলে আপনি এই যে পেজ থেকে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে আর্টিকেলটি পড়ছেন এটিও একটি ওয়েব সাইট।

তাছাড়া গুগল, ইউটিউব, ফেসবুক, লিংকডিন সমস্ত গুলোই এক একটি ওয়েবসাইট। পার্থক্য শুধু ডিজাইনের এবং কাজ করার ধরণের। কিন্তু এখানে একটি মজার কথা রয়েছে এই সমস্ত ওয়েবসাইট গুলো তৈরি করেছে ওয়েব ডিজাইনার এবং ওয়েব ডেভেলপার মিলে।

একটি কথা জেনেনিন, যারা ওয়েব সাইটের ডিজাইন করে তারা হচ্ছে ওয়েব ডিজাইনার এবং সেই ডিজাইন করা ওয়েবসাইট যারা ডেভেলপমেন্ট করে তারা হচ্ছেন ওয়েব ডেভেলপার। আর হ্যা একজন ওয়েব ডেভেলপার একজন ডিজাইনার বটে।

চলুন ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর মূল বিষয় গুলোর দিকে যাওয়া যাক এবং ধীরে ধীরে সমস্ত কনফিউজ দূর করার চেষ্টা করা যাক,

দেখুন ওয়েব ডিজাইন বলুন বা ডেভেলপমেন্ট বলুন শিখতে হলে সর্বপ্রথম একটি বিষয় সম্পর্কে সম্পুর্ন পরিষ্কার ধারণা নিয়ে নিতে হবে। বিষয়টি হচ্ছে, ওয়েব ডিজাইন এন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর মধ্যে পার্থক্য কি সেটা জানা।

ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট

আমি আপনাকে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে আলাদা আলাদাভাবে জানিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি যেন আপনি ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে সমস্ত কিছু পরিস্কারভাবে জানতে পারেন।

ওয়েব ডিজাইন কি ?

ভালভাবে খেয়াল করবেন, এই যে আপনি লেখাগুলো পড়ছেন যেইখান থেকে সেটাই হল ওয়েব সাইট, তাছাড়া আপনি যে গুগল এবং ইউটিউব বা ফেইসবুক ব্যবহার করেন এগুলো হল ওয়েব সাইট। আপনি যখন একজন ডিজাইনার হবেন তখন খুন সহজে আপনি এই সাইট গুলো তৈরি করতে পারবেন।

খেয়াল করবেন, যখন ওয়েব সাইট তৈরি শুরু করা হয় তখন আপনি এই যে ওয়েব সাইটটি যেমন চেহারার দেখতে পাচ্ছেন তখন মূলত তেমন থাকেনা বা তেমন দেখায় না।

এইচ টি এম এল ব্যবহার করে যখন সাইটটি তৈরি করা হয়েছে তখন এটার চেহারা অন্য রকম ছিল কিন্তু যখন সি এস এস ব্যবহার করা হয়েছে তখন এটার চেহারা আপনি যেমন দেখছেন এই রকম হয়েছে।আশা করি বুঝতে পেরেছেন, যদি না বুঝেন তাহলে মনোযোগ দিন।

আপনি হয়ত মানুষের কঙ্কাল দেখেছেন, দেখতে কেমন ছিল? আর চামড়া মাংস ওয়ালা মানুষ দেখতে কেমন একদম আলাদা কিন্তু । ওয়েব সাইটও তার চেয়ে আলাদা কিছু নয়।

ঠিক তেমনি ওয়েব সাইট এইচ টি এম এল ব্যবহার করে একটা ওয়েবসাইট এর কঙ্কাল তৈরি করা হয় এবং সি এস এস ব্যবহার করে তার একটি সুন্দর রূপ দেয়াটাই হল ওয়েব ডিজাইন।

আপনি যখন ওয়েব ডিজাইন শুরু করবেন এইচ টি এম এল (HTML) দিয়ে তখন আপনার কন্টেন্ট এবং ছবি গুলো এপাশ ওপাশ থাকবে কিন্তু সি এস এস (CSS) যখন ব্যবহার করবেন তখন সব কিছু ঠিক থাকবে এবং সাইটি সুন্দর দেখাবে।

একজন ওয়েব ডিজাইনার এর কাজ হল একটা ওয়েবসাইট এর আউটলুক কেমন হবে সেটা তৈরি করা। ওয়েবসাইট টিতে কন্টেন্ট গুলো, ছবি গুলো কেমন দেখাবে কোথায় দেখাবে সেটাই হল ওয়েব ডিজাইন এর কাজ। সহজ ভাষায় ওয়েবসাইটটিকে ব্রাউজ করলে কেমন দেখাবে সেই লেআউট তৈরি করাটাই হল ওয়েব ডিজাইন।

আপনাকে জানতে হবে ওয়েব ডিজাইন করার জন্য বা ওয়েব ডিজাইন শেখার জন্য মূলত কি কি শিখতে হবে তার একটা তালিকা আমি নিচে সাজিয়ে দিব আপনারা ইন্টারনেট থেক সার্চ করে দেখবেন কোনটার কাজ কি ভাল হয় যদি ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখলে।

আপনার যে বিষয় গুলো জানতে হবেঃ

  • এইচ টি এম এল ( HTML )
  • সি এস এস ( CSS )
  • জাভা স্ক্রিপ্ট ( JAVA SCRIPT )
  • জেকুয়েরি ( JQUERY )
  • বুটস্ট্রাপ ( BOOTSTRAP )

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কি ?

আশা করি বুজে গিয়েছেন ওয়েব ডিজাইন কি এনং কেন দরকার হয়। এখন জানতে পারবেন ওয়েব ডেভেলপার কি?

আমি আগেই বলেছি যে একটা ওয়েব সাইট দেখতে কেমন হবে সেটা তৈরি করা মূলত একজন ওয়েব ডিজাইনারের কাজ। আর সেই ডিজাইন করা ওয়েবসাইট ডেভেলপ করে চলার মত ব্যবস্থা করে থাকে একজন ওয়েব ডেভেলপার।

একটা কথা খুন ভালোভাবে খেয়াল রাখবেন, দেখুন মৃত ব্যাক্তি কোন প্রকার কাজ করতে পারেনা কিন্তু এদিকে একজন জীবন্ত মানুষ সব কিছু করতে পারে, ঠিক তেমনি আপনি যখন একটা ওয়েব সাইট ডিজাইন করবেন তখন শুধু এর চেহারাটাই থাকবে কিন্তু কোন কাজ করতে পারবে না এক কোথায় আমরা মৃত বলতে পারি।

কিন্তু যখন সাইটটিকে ডেভেলপ করবেন তখন এটা প্রান ফিরে পাবে অর্থাৎ সাইটি সচল হবে। যদি বুঝে না থাকেন তাহলে মনোযোগ দিন,,,,

এই যে আপনি যে ফেসবুক ব্যবহার করেন প্রতিনিয়ত, আপনি নতুন ছবি আপলোড করেন, স্ট্যাটাস দেন, বন্ধুকে ম্যাসেজ দেন কীভাবে হয় একটু কল্পনা করুন ,আচ্ছা আপনাকে ভাবতে হবে না আমি বলছি।

আপনি যে ম্যাসেজ গুলো পাঠান সেটা কীভাবে যাবে, স্ট্যাটাস দিলে কীভাবে দেখাবে, ছবি আপলোড দিলে কীভাবে আপলোড হবে এই গুলো করার জন্য ওয়েব সাইটকে ডেভেলপ করা হয়। আর যে সমস্ত প্রোগ্রামার এই কাজ গুলো করে থাকে তাদের বলা হয় ওয়েব ডেভেলপার।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট উদাহরণ

আপনি যে নিউজ বা খবরের সাইটগুলো দেখেন প্রতিদিন কিন্তু নতুন নতুন খবর দেয়া হয়, আপনি ক্লিক করেলি নতুন পেজ এ নিয়ে যায় এবং খবর গুলো দেখা যায়, মূলত খবর গুলো কীভাবে আপলোড হবে তার কাজ করাটাই হল ওয়েব ডেভেলপমেন্ট।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন, যদি বুঝে না থাকেন তাহলে এই লিঙ্কটাতে ক্লিক করে ভালভাবে ধারনা নিয়ে নিন, আর যদি বুঝে থাকেন তাহলে দরকার নেই।

ওয়েব সাইটকে ডিজাইন করার জন্য যেমন অনেক গুলো ভাষা শিখতে হয় তেমিনি ওয়েব ডিজাইন শেখার জন্য কিছু ভাষা রয়েছে যে গুলোকে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ বলা হয়।

যে সমস্ত ভাষা শিখতে হবে?

  • পি এইচ পি ( PHP )
  • মাই এস কিউ এল ( MYSQL)
  • লারাভেল ( LARA VEL)

ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ক্যারিয়ার গাইডলাইন

বর্তমান বিশ্বে প্রতিনিয়ত ওয়েব সাইটের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। অনলাইন হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছর প্রায় ১ মিলিয়ন ওয়েব সাইট যোগ হচ্ছে ইন্টারনেটে। এই ওয়েব সাইট গুলো তৈরি করতে প্রতিদিন লাখ ওয়েবডিজাইনার এবং ডেভেলপার কাজ করে যাচ্ছে।

তাই বর্তমান সময়ে একজন ওয়েবডিজাইনার এবং ওয়েব ডেভেলপার এর চাহিদা বেরেই চলেছে।তাই অনেকে আছে যারা নিজেকে ওয়েবডেভেলপার হিসেবে গরে তুলছে এবং নিজের ভবিষ্যৎ পরিচালনা করছে।

একজন ওয়েব ডিজাইনার এবং ডেভেলপার অনেক মার্কেট প্লেস থেকে প্রতি মাসে লাখো টাকা ইনকাম করছে। আপনি যদি ফাইবার বা ফ্রিলান্সার ব্রাউজ করেন তাহলে দেখতে পারবেন প্রতিদিন নতুন নতুন কাজ যোগ হচ্ছে এবং হাজারো ফ্রিলাঞ্চার কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে খুব সহজে।

এডুকেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড

এক কথায় বলা যায় না, আপনাকে কম্পিউটার সায়েন্স থেকে পাস করতে হবে না আপনি যেকোনো ডিপার্টমেন্টের ছাত্র হলেও পারবেন এমন কি আপনি যদি সবে মাত্র এইস এস সি পাস করেন তাহলে আপনিও শুরু করতে পারবেন।

কারন ওয়েব ডিজাইনার হতে এডুকেশনাল ব্যকগ্রাউন্ড এর প্রয়োজন হয় না। আপার তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা থাকলেই পারবেন।ডিজাইনার হওয়ার সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।

বেশীরভাগ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোম্পানিতে দেখলে এই তথ্য বের হয়ে আসবে যে ডেভেলপার গুলো আছে তারা বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড এর ছাত্র ছিল। আশা করি আপনাকে বোঝাতে পেরেছি ওয়েব ডিজাইনার বা ডেভেলপার হতে যেকোনো এডুকেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড হলেই হবে।

একজন ওয়েবডিজাইনার বা ডেভেলপার হতে কি করতে হবে?

আপাকে সর্বপ্রথম অনেক ধৈর্যশীল হতে হবে কারন আপনাকে একটানা অনেক সময় ধরে কাজ করতে হবে, সেটা হতে পারে ৫ ঘণ্টা বা ৭ ঘণ্টা। তাই আপনাকে অবশ্যই ধৈর্য ধারন করার খমতা রাখতে হবে। আপনি যদি জীবনে সফল হতে চান তাহলে আপনকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে আর আপনার যদি ধৈর্য ধারন করার ক্ষমতা না রাখেন তাহলে আপনি যে কাজই হোক না কেন আপনি সফলতা পাবেন না। আপনি যদি কোন কোম্পানির চাকরি করার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন তাহলে কিন্তু আপনাকে অনেক কষ্ট করতে হবে যদি কষ্ট করাতে এবং ধৈর্য ধারন করতে না পারেন হয়ত আপনার পদোন্নতি হবে না নতুবা আপনাকে চাকরি চ্যুত করা হবে।

মনে করুন আপনি একটা কোম্পানিতে প্রতিমাস ২০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন এবং আপনাকে ডিউটি করতে হয় মিনিমাম ৮ ঘণ্টা, আপনি যতটাই চেষ্টা করুন না কেন আপনি কিন্তু ৮ ঘণ্টার আগে বের হতে পারবেন না। আর আপনাকে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে চাকরির জন্য যেতে হবে আবার সন্ধ্যা হলে ফিরতে হবে।

এখন বলি ওয়েবডেভেলপার হতে হলে আপনি কেন ধৈর্যশীল হবেন, আপনাকে যদি ২০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতে এতটা কষ্ট করতে হয়। আপনি ওয়েবডেভেলপার হয়ে প্রতি মাসে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ইনকাম করতে কতটা কষ্ট করতে হবে এবং কতটা ধৈর্যশীল হতে হবে।আপনি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন নিজের ঘরে বসে আপনাকে কেউ বলবে না এই কাজটা আজ শেষ করে তারপর বাসায় যাবেন।

তাই আপনি যদি নিজেকে ভাল একজন ওয়েবডিজাইনার বা ওয়েবডেভেলপার হিসেবে গরে তুলতে চান, আপনাকে অবশ্যই ধৈর্যশীল হয়ে কাজ করতে হবে নতুবা আপনি বিফলে আজন।

মনে রাখতে হবে ধৈর্যশীলতা সাফল্যের চাবিকাঠি।

ওয়েব ডেভেলপার VS ওয়েব ডিজাইনার কোনটি হবেন?

এটা সিলেক্ট করতে হলে আপনাকে ওয়েব ডিজাইনার এবং ওয়েব ডেভেলপার এর মধ্যে পারথক্য জানতে হবে। আগেও বলেছি কিন্ত আবার ক্লিয়ার করার চেস্টা করছি,

ওয়েব ডিজাইনারঃ ওয়েব ডিজাইনার বলতে মুলত বোঝায় যারা একটা ওয়েব সাইট এর লে-আউট তৈরি করে ।এক কথায় আপনি যে সাইট থেকে লেখাগুলো পড়ছেন এবং এ রকম এর সাইটের রূপ দেখতে পাচ্ছেন এটাই মূলত ডিজাইন।একজন ওয়েব ডিজাইনার প্রথমে HTML, CSS, Javascript, Jquery , Bootstarp ব্যবহার করে সাইটটি ডিজাইন করেছে।

ওয়েব ডেভেলপারঃ ওয়েব ডিজাইনার ওয়েব সাইট ডিজাইন করার করার পর সেইটা ডেভেলপমেন্ট করে একজন ওয়েবডেভেলপার। একটু বুঝিয়ে বলি, আপনি যে ফেসবুক ব্যবহার করেন এবং যে লে-আউট দেখতে পান সেইটা হচ্ছে ডিজাইন আর এই ডিজাইনটা করেছে একজন ডিজাইনার।

আপনি ফেসবুক ব্যবহার করার সময় যে পোস্ট গুলো করেন, মেসেজ পাঠান, লাইক, কমেন্ট করেন, এই যে প্রসেসটা আছে এটাই একজন ডেভেলপার করে থাকে।ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর জন্য HTML,CSS,JAVASCRIPT,JQUERY,BOOTSTRAP এর পাশাপাশি আপনকে PHP এবং MYSQL এর ব্যবহার শিখতে হবে।

এখন আপনাকে সিলেক্ট করতে হবে আপনি কোনটা শিখবেন।

একটা বিষয় আপনাকে জেনে রাখতে হবে, একজন ওয়েবডিজাইনার শুধুই ডিজাইনার কিন্তু একজন ওয়েবডেভেলপার পাশাপাশি একজন ওয়েবডিজাইনার। কারন একজন ডেভেলপার হতে প্রথমে এজন ডিজাইনার হতে হয়।

আপনি যদি একজন ওয়েব ডিজাইনার হতে চান তাহলে আপনাকে শুধু ডিজাইন কীভাবে করতে হয় শিখতে হবে এবং আপনাকে কীভাবে ডেভেলপমেন্ট করতে হয় তার দিকে নজর দেয়ার দরকার নেই।

আর যদি আপনি একজন ডেভেলপার হতে চান আপনাকে অবশ্যই ডিজাইনটা ভালোভাবে শিখতে হবে। একজন ওয়েব ডিজাইনার হওয়ার পর যদি আপনি আপনার স্কিল এবং লাইফটাকে আরও একটু অগ্রসর করতে চান তাহলে আপনি ওয়েবডেভেলপমেন্ট শিখতে পারেন। তাহাছাড়াও মার্কেটপ্লেস এবং জব সেক্টরে দুজনেরই দরকার আছে।

শিখতে কত দিন লাগে?

মূলত এটা নির্ভর করে আপনার উপরে। কারণ আপনি যদি, ধৈর্যশীল, পরিশ্রমী হন এনং প্রতিদিন কাজ করেন তাহলে আপনি খুব তারাতারি শিখতে পারবেন। আপনি যদি প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন তাহলে আপনি ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে ওয়েবডিজাইনের ব্যসিকটা খুব ভালোভাবে শিখতে পারবেন।

আর যদি এডভান্স লেভেলের ডিজাইন শিখতে চান তাহলে প্রায় ১ থেকে ১.৫ বছর সময় লাগবে। আপনাকে সবাই বলবে আপনি ৬ মাসে শিখতে পারবেন সব। হা আমিও বলছি আপনি শিখতে পারবেন কিন্তু ওই শিক্ষা দিয়ে আপনি লাইফে কিছু করতে পারবেন না তাই আপনাকে ধৈর্যশীল হয়ে অনেক সময় ধরে কাজ করতে হবে।

আর হা আপনি যদি সময় বেশী ব্যয় করেন এনং প্রাকটিস বেশী করেন তাহলে আপনি খুন তারাতারি শিখতে পারবেন। আর আপনি যদি একজন ডেভেলপার হতে চান তাহলে আপনাকে ২ বছর কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।

আপনি যখন সব কিছু খুব ভালোভাবে শিখে নিবেন তখন আপনার জন্য সব দরজা খুলে যাবে এবং আপনাকে কোন জব খুজতে হবে না আপনার প্রোফাইল দেখে জব দেয়ার জন্য আপনাকে ডাকা হবে।

তাছাড়াও আপনি ফ্রিলান্সিং সহ নানা ধরনের চাকরি করতে পারবেন এমন কি আপনি আপনার তৈরি করা থিম বিক্রি করে আপনি লাখ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এমনকি আপনি নিজের একটা আইটি ফ্রাম দিতে পারবেন যদি আপনার তীব্র ইচ্ছা এবং স্কিল থাকে।

আপনি দুই বছর ধরে যদি ওয়েব নিয়ে প্র্যাকটিস এবং লেখাপড়া করতে থাকেন তাহলে আপনি ধীরে ধীরে সব কিছু বুঝে যাবেন ।তাই শুরু করে দিন আজ থেকেই।

বিশেষ কথাঃ আপনি যদি কঠোর পরিশ্রম এবং ধৈর্যশীল না হন তাহলে আপনি কোন দিন সফল হতে পারবেন না । তাই আপনাকে পরিশ্রমী এবং ধৈর্যশীল হতে হবে।

ব্যর্থ হওয়ার কিছু কারন

  • নিজেকে দুর্বল ভাবা এনং পারবনা মনে করা।
  • কোড করতে গেলে ভয় করা যে আমি পারবনা।
  • অন্যের উপরে নির্ভর করা।
  • ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভুল গুলো সমাধান করতে না পারা এবং পারিনা বলে ছেড়ে দেয়া।
  • শুধু প্র্যাকটিস এবং রিয়েল লাইফ প্রোজেক্ট না করা।

এমন অনেক কারন থাকবে কিন্তু আপনি যদি সব কারন সমাধান করে এগিয়ে যেতে পারেন তাহলে আপনি সাকসেস হতে পারবেন।

ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট -মাসিক উপার্জন কত হতে পারে?

মূলত উপার্জন কি পরিমান হতে পারে সেটা নির্ভর করে আপনি কোথায় কাজ করছেন তার উপরে। আপনি যদি ভাল কোন ওয়েবডেভেলপিং কোম্পানিতে চাকরি করেন তাহলে আপনার ডিজাইনার হিসেবে বেতন হবে ৪০ থেকে ৫০ হাজার এর কম ও হতে পারে আবার বেশী হতে পারে এটি নির্ভর করে আপনি কেমন কাজ করতে জানেন এবং আপনার কোম্পানিটা কেমন।

আর আপনি যদি ডেভেলপার হিসেবে কোন এক কোম্পানিতে চাকরি করেন তাহলে আপনার বেতন ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।আপনার স্কিল এর উপর ভিত্তি করে আপনার উপার্জন হবে।

আপনি যদি নিজেকে একজন ফ্রিলান্সার হিসাবে গরে তুলতে পারেন তাহলে সেটি আলাদা বিষয়। আপনি ভালো কাজ এবং কাজ রেগুলার পেলে আপনার ইনকাম মাসিক ২ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তাছারাও আপনি প্রতি ঘণ্টা ২০ থেকে ৫০ ডলারে কাজ করতে পারবেন।

দেখুন একটি সফল ক্যারিয়ার শুরু করতে চাইলে ফ্রিলান্সিং হবে আপনার জন সব চেয়ে বেস্ট একটি উপায়।

যে কথা গুলো সর্বদা স্মরণ রাখতে হবে

১। কোন সময় নিজেকে দুর্বল ভাবা যাবেনা। যেকোনো বিষয় যদি আপনার কাছে জটিল মনে হয়ে এবং আপনি যদি সমাধান না করতে পারেন তাহলে নিজেকে হতাশ ভাববেন না।

একদিন না পারলে পরের দিন করবেন ,পরের দিন না পারলে তার পরের দিন করবেন এবং সব সময় ভাববেন কীভাবে এটার সমাধান করা যায় এবং যত সময় সমাধান না হয় আপনি চেষ্টা করতে থাকুন, গুগোল, ইউটিউবে সার্চ করলেই আপনি সমাধান পেয়ে যাবেন তাছাড়াও ফেসবুক অনেক গ্রুপ আছে ওয়েবডেভেলপমেন্ট নিয়ে সেই খানে জয়েন থাকবেন এবং প্রবলেম হলে পোস্ট দিবেন সমাধান হয়ে যাবে।

২। আপনি যখন কোডিং করা শুরু করবেন অনেক সময় অনেক জটিল কোডিং করতে হবে এবং দেখা যাবে বুঝতে পারছেন না বা মনে থাকছে না। তাই বলে কি আপনি ছেড়ে চলে যাবেন, না এটা কোন সময় করা যাবে না।

আপনি যখন দেখবেন কোন একটা বিষয় আপনি বুঝতে পারছেন না সাথে সাথে ইউটিউব বা গুগোলে সার্চ করবেন সমাধান পেয়ে যাবেন এবং নিজে নিজে বার বার করতে থাকবেন তাহলে দেখেবন সহজেই বুঝে গেছেন।

আর আপনার যদি কোন কোড মনে না থাকে, সেই কোড বার বার করার চেষ্টা করবেন দেখেন আপনার একদম মুখস্ত হয়ে হয়ে গেছে এবং আপনি একি কোড বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করতে পারছেন। তাই হতাশ হবার কিছু নেই।

৩। অন্যের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দিন এবং নিজে নিজে কিছু শেখার চেষ্টা করুন তাহলে আপনি অনেক ভাল করতে পারবেন।

৪. অনেকেই আছে ইন্টারনেট ব্যবহার করে কিন্তু কোন কিছু সঠিক ভাবে সার্চ করে ইন্টারনেট থেকে বের করতে পারবে না। সমস্যা নেই আমি সাধারণ উপায় বলছি, আপনি গুগোল অথবা ইউটিউব এর যে সার্চ বার টা আছে ওই খানে আপনি যেটা খুজতে চাচ্ছেন সেই নামটা বাংলা অথবা ইংরেজিতে লিখে সার্চ করুন দেখবেন চলে আসবে।

আপনি যদি সঠিকটা নাও লিখেন একটু পারিপার্শ্বিক হলেও চলে আসবে। তাই আপনি যেটাই খুঁজবেন ইন্টারনেট এ গুগোল বা ইউটিউব থেকে সার্চ করবেন। দেখবেন ধীরে ধীরে আপনার সার্চ এর স্কিলটা অনেক বেরে গিয়েছে।

৫. দীর্ঘদিন কাজ করার পর আগ্রহ ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনা থাকে, এটা হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু আগ্রহ যতই চলে যেতে চায় না কেন আপনাকে কোন সময় কাজ ছেড়ে দেয়া যাবে না, মনটাকে শক্ত করে কাজে মনোযোগ দিতে হবে।

৬. আপনাকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে আপনি কাজ করা অবস্থায় খেয়াল রাখবেন যেন কোন রকম ডিপ্রেশন তৈরি হয় এমন কাজ যেন আপনার দ্বারা না হয়। আশা করি আমি যেটা বোঝাতে চেয়েছি আপনি বুঝে গিয়েছেন।

মনে রাখবেন অনুশীলনে সবি সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *