ক্যারিয়ার

ক্যারিয়ার কাকে বলে ? সফল ক্যারিয়ার গঠনে করণীয়

ক্যারিয়ার কাকে বলে এই প্রশ্নটির উত্তর একদম সহজ। মানুষের জীবনের সুনির্দিষ্ট যে কর্ম রয়েছে তাকেই ক্যারিয়ার বলা হয়। সেটি যেকোনো কর্ম হতে পারে। হতে পারে চাকরি, উদ্যোক্তা, ফ্রিলান্সান্সিং যেকোনো কিছু।

মানুষ তার যেকোনো একটি নির্দিষ্ট কর্মের মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করাকে ক্যারিয়ার বলে। মানুষের জীবনের উন্নয়নের ধারাকে প্রকাশ করার জন্য ক্যারিয়ার শব্দ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আজকের এই আর্টিকেলে ক্যারিয়ার সম্পর্কে সব কিছু একদম বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করবো। আপনি আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়লে ক্যারিয়ার সম্পর্কে সব কিছু বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং সফল ভাবে ক্যারিয়ার গঠন করার জন্য কি কি পদক্ষেরপ গ্রাহন করা দরকার সব কিছু সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা পেয়ে যাবেন।

ক্যারিয়ার কাকে বলে তার বিস্তারিত

ক্যারিয়ার কাকে বলে বা ক্যারিয়ার শব্দের অর্থ কর্মজীবন। একজন ব্যাক্তি যখন তার কর্ম জীবন শুরু করে তখন ক্যারিয়ার কাকে বলে এটি কিন্তু না জেনেই শুরু করে দেয়। প্রতিটি মানুষের উচিৎ যে, কোন কাজ বা কর্ম শুরু করার পূর্বে তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার কেমন হবে বা হতে চলেছে সেটি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান রাখা।

কোন ধরনের প্লানিং ছাড়া কিন্তু জীবনে কোন ব্যাক্তি সফল হতে পারেনা। আপনি নিজের সংসার বলুন বা নিজের কর্ম জীবন বলুন সব ক্ষেত্রেই আপনাকে প্লানিং এর মাধ্যমেই সামনেড় দিকে অগ্রসর হতে হবে।

প্রতিটি মানুষ চায় তার যে, তার ক্যারিয়ার খুব সুন্দর হোক এবং সে অনেক নাম কামাক। কিন্তু বেশীরভাগ মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন এবং সঠিক গাইডলাইন না পাওয়ার কারনে নিজের জীবন যেভাবে সাজাতে চেয়েছিল সেটি আর হয়ে উঠেনা।

স্বভাবতই আমাদের দেশের মানুষের স্বপ্ন থাকে ভাল একটি চাকরি কররে এবং বাকি জীবন খুব ভালভাবে কাটাবে। কিন্তু ক্লাসের যে ব্যাক বেঞ্চার ছিল সে চাকরি না করে উদ্যোক্তাতে পরিনত হয়েছে।

এমন হর হামসেসা প্রতিটি দেশেই রয়েছে। আমাদের দেশের অধিক সংখ্যক মানুষ চাকরি খুজতে তার সারাটি জীবন শেষ করে দেয় আবার অনেকের চাকরি খুজতে হয়না ডেকে নিয়ে চাকরি দেয়। এই দুই এর মধ্যে পার্থ্যকটা আসলে কি? কখনো কি প্রশ্ন করে দেখেছেন?

আপনাকে নিজের জীবনকে এমনভাবে সাজাতে হবে অর্থাৎ লেখা পড়া এমন ভাবে করতে হবে যেন ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য আপনাকে আর কোন ধরনের চিন্তা করতে না হয়।

লেখা পড়ার পাশাপাশি বাস্তবিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে না হলে প্রযুক্তির এই যুগে আপনাকে সারাজীবন বেকার বসে থাকতে হবে। আপনাকে একটি সাধারণ উদাহরণ দিতে চাই, সেটি হল আপনি চাকরি করার জন্য যে সিভিটি তৈরি করেছেন সেটি নিজে করেছেন নাকি অন্য কেও আপনাকে তৈরি করে দিয়েছে?

এটি বুঝতে পারলেই আপনি অনেক কিছু বুঝে গিয়েছেন। একটি সুন্দর ক্যারিয়ার গঠন হয় সৃজনশীল ধারার মাধ্যমে। তাহলে জেনে নিন কিভাবে আপনি আপনার একটি সুন্দর ক্যারিয়ার গঠন করবেন?

আরও দেখুন,

সফল ক্যারিয়ার গঠনে করণীয়

জানলেন ক্যারিয়ার কাকে বলে তাহলে নিজের ক্যারিয়ারকে সুন্দর ভাবে গঠন করতে চাইলে সাধারণ কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয় সেগুলো জেনেনিন। বেশীর ভাগ মানুষ তার নিজের ক্যারিয়ারকে সঠিক ভাবে কিভাবে গঠন করতে হয় সেই সম্পর্কে ধারণা থাকেনা বা বুঝে উঠতে পারেনা।

আপনার ক্যারিয়ার গঠনে কয়েকটি কাজের কথা তুলে ধরছি যেগুলো আপনি মেনে চলতে পারলে আপনার ক্যারিয়ার অনেক ভাল হবে বলে আশা করছি। সমাজে বা আমাদের দেশের দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন অনেক প্রতিভাবান মেধাবী তাদের গন্তব্য পর্যন্ত যেতে পারেনা।

তারে আগেই গোলাপের পাপড়ির মত ঝরে যায়। এর কারণ হচ্ছে তারা অনেক ভালভাবে তাদের শিক্ষা জীবন শেষ করেছে কিন্তু কিভাবে একটি সফল ক্যারিয়ার দ্বার করানো যায় সেটি সম্পর্কে কোন ধরনের ভাল উপদেশ বা দিক নির্দেশনা পায়না।

আপনি আর্টিকেলটি পড়লে একটি সুন্দর ক্যারিয়ার গঠন করতে আপনার কি কি পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে সে সম্পর্কে সব কিছু বিস্তারিত জানতে পারবেন।

কয়েকটি সাধারণ কাজের কথা উল্লেখ করছি, আপনি এই কাজ গুলো অনুসরণ করতে পারলে যে কোন অবস্থায় নিজের ক্যারিয়ার খুব ভালভাবে গঠন করতে পারবেন।

১. নিজের প্রতিভা এবং দক্ষতা শনাক্তকরন

প্রথমে আপনার নিজের প্রতিভাকে চিনতে হবে। আপনি কি করতে পারেন, আপনার কাছে কি এমন বিষয় রয়েছে যেটি আপনি খুব ভালভাবে করতে পারবেন। মূল কথা আপনি জীবনে কি হতে চান এবং আপনি সেই বিষয় সম্পর্কে কতটুকু জানেন সব কিছুর উপর ভিত্তি করে আপনাকে আপনার প্রতিভা যাচাই করতে হবে।

এক জন ব্যাক্তি যদি প্রথম থেকেই কোন কিছুর উপর দক্ষ থাকে এবং ভবিষ্যতে সেই বিষয় নিয়ে কাজ করলে সে অনেক এগিয়ে যেতে পারে। নিজের প্রতিভাকে চিনতে তার পর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

উদাহরণ স্বরূপ আপনি ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটার সম্পর্কে খুব ভাল পারদর্শী, এটি কিন্তু আপনার একটি প্রতিভা। আপনি যদি ভবিষ্যতে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে লেখা পড়া করেন তাহলে আপনার ক্যারিয়ার সুন্দর ভাবে সাজাতে কোন ধরনের সমস্যা হবেনা।

তাই প্রথমে নিজের প্রতিভা যাচাই করুন তার পর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুরু করুন। আবার এমন পরিকল্পনা করতে যাবেন না যা পূরন হওয়া খুব কষ্টকর বা সম্ভব নয়।

তাছাড়াও অনেকে আছেন যারা তাদের গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর বুঝতে পারছে, সে যদি তার যে প্রতিভা আছে সেই বিষয় নিয়ে লেখা পড়া করত তাহলে ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করতে হতনা।

এমন চিন্তা ধারার মানুষের জন্য একটি কথা সেটি হলো, আপনি অতিত ভাবনা বাদ দিন, যে বিষয় নিয়ে লেখা পড়া করেছেন সেটি নিয়েই রিসার্চ করা শুরু করুন ১ থেকে ২ বছর। একটু চেষ্টা এবং লেখা পড়া করলে আপনি আপনার বর্তমান থেকেই ভাল একটি অভিজ্ঞতা বা প্রতিভা অর্জন করতে পারবেন।

যার ফলে আপনার ক্যারিয়ার খুব সহজেই দ্বার হয়ে যাবে। আপনাকে শুধু চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখবেন অনুশীলনে সবি সম্ভব।

তাছাড়াও অনেকে আছেন যা ফ্রিলান্সিং বা আইটি বিষয়ক কোন বিষয় নিয়ে আগ্রহ রাখে তাহলে সে যেকোনো বয়সে ভাল একটি প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিং এর মাধ্যমে তার প্রতিভাকে কাজে লাগাতে পারেন এবং অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

২. লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নির্ধারণ

শুধু ক্যারিয়ার কাকে বলে জানলেই হবেনা নিজের প্রতিভা যাচাই করতে হবে ও নিজের প্রতিভাকে যাচাই করার পর একজন মানুষের যে কাজটি থাকে সেটি হলো তার ভবিষ্যৎ লক্ষ এবং উদ্দেশ্য কি? প্রতিটি মানুষের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য রয়েছে।

যেমন একজন ব্যাক্তির প্রতিভা আছে সে পদার্থ বিজ্ঞান অনেক ভাল জানে বা প্রোগ্রামিং ভাষার ব্যবহার করতে পারে।

সেই অনুযায়ী তার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে হবে সে ভবিষ্যতে তার প্রতিভা নিয়ে লেখা পড়া করবে বা সেটি নিয়ে কাজ করবে তাহলে তার ক্যারিয়ার দ্বার করতে তার কোন ধরণের সমস্যার সম্মুখিন হতে হবেনা।

কেও একজন যদি ব্যবসা করতে করতে চায় তাহলে তার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ ব্যবসা। সে ব্যবসা বাদ দিয়ে যদি চাকরির উদ্দেশ্যে সব কিছু করে তাহলে নিজের ক্যারিয়ার নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী সাজাতে পারবেনা।

তার নিজের প্রতিভা কে যাচাই করে সেই অনুযায়ী লক্ষ নির্ধারণ করতে হবে। একজন মানুষকে তার লক্ষ্যে পৌছতে অনেক ধরনের ত্যাগ এবং তিতিক্ষা করতে হয়। যে ধৈর্য ধারন করে তার লক্ষে অটুট থাকতে পারে সি মূলত সফল হয়।

৩. স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন

লক্ষ নির্ধারণ করার পরের যে ধাপটি রয়েছে সেটি হলো স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন করা। কারণ কেও যদি অল্প দিনে অনেক বেশী চায় তাহলে সে কোন দিন সফল কিছু করতে পারেনা।

তাই আপনার পরিকল্পনা হতে হবে দীর্ঘমেয়াদী। ধরুন আনি একজন ব্যাংকার হতে চান বা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে চান তাহলে আপনার কি করতে হবে? মাধ্যমিক শেষ করেই আপনি কি ব্যাংকার অথবা ইঞ্জিনিয়ার হতে পারবেন? সেটি কিন্তু সম্ভব নয়।

আপনাকে কিন্তু দীর্ঘদিন অপেক্ষা এবং অনেক চেষ্টা করার পর সেটি অর্জন করতে হবে। যেমন আপনি চাইলেন আগামী ৫ বছরের মধ্যে আপনি একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হবেন।

কিন্তু আপনি দুই বছর কাজ করার পর ভেবে নিলেন আপনাকে দিয়ে এটা হবেনা। আপনি যখনি এটি ভাববেন তখন কিন্তু আপনি সফল হতে পারবেন না। আপনি আপনার মূল টার্গেট কে কেন্দ্র করে যদি চেষ্টা চালিয়ে যান তাহলে আপনি কিন্তু ৫ বছর পর একজন ইঞ্জিনিয়ার হতে পারবেন।

যেমন আপনার প্রতিভা আছে যে, আপনি ব্যবসা করতে পারবেন এবং সেই অনুযায়ী টার্গেট নির্ধারণ করলেন আগামী ৩ বছরে আপনার ব্যসাকে দেশের সব প্রান্তে পৌছতে হবে। আপনি যদি আপনার টার্গেট অনুযায়ী প্লান সাজিয়ে সঠিক ভাবে ৩ বছর পরিশ্রম করেন তাহলে আনার সফলতা খুব তারাতারি ধরা দিবে আপনার কাছে।

আপনি যদি বিনা লক্ষ্যে কাজ করা শুরু করেন তাহলে কিন্তু আপনি বেশী দূর যেতে পারবেন না। তাই নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য আপানকে নির্ধারণ করতে হবে এবং সেই সাথে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। কারণ কোন কিছু খুব তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়না এবং পেতে অপেক্ষা করতে হয়।

এ পর্যন্ত যে সমস্ত ব্যাক্তি তার জীবনকে সফলভাবে সাজিয়েছেন তাদের কাজের পেছনে ছিল দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্লপ্না এবং কাজ করার স্প্রিহা।

৪. শিক্ষা অর্জন ও মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার

আপনি যে বিষয়টি নিজের ক্যারিয়ারের জন্য নির্ধারণ করবেন সেটি নিয়ে অবশ্যই শিক্ষা অর্জন করতে হবে। এর জন্য আপনি বই, ইউটিউব এবং গুগল সার্চ এর ব্যবহার করতে পারেন।

আপনি শিক্ষা অর্জন করার পর যে মেধা টুকু অর্জন করবেন বা আপনার যে মেধা রয়েছে সেটির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আপনার কাজের জন্য আপনার যে মেধা রয়েছে সেটি পুরো টুকু অ্যাপলাই করতে হবে।

মনে রাখবেন আপনার মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার আপনার কাজকে অনেক বেশী এগিয়ে নিতে যেতে সহযোগিতা করে। আপনার অনেক সময় এমনটি মনে হতে পারে আপনার চাইতে যারা এগিয়ে আছে আপনি তাদের মেধার কাছে দুর্বল।

ভূল করেও এমনটি ভাবতে যাবেন না কারণ পৃথিবীতে প্রটিতি মানুষ আলাদা আলদা মেধার অধিকারী। যে তার মেধার সঠিক ব্যবহার করতে পারে সেই কিন্তু অনেক দূর যেতে পারে এবং সফল একজন ব্যক্তিত্বে পরিনত হতে পারে।

তাই অন্যের কথা চিনতা না করে নিজের মেধাকে সঠিক কাজে ব্যবহার করুন। আমাদের দেশের লক্ষ শিক্ষার্থী রয়েছে যারা তাদের সিভি তৈরি করতে পারেনা। এর পেছনে কারণ কি?

কারণ কিন্তু সে নিজেই, যদি চায় সে নিজেই কিন্তু কিভাবে একটি সিভি তৈরি করতে হয় সেটি শিখে নিতে পারবে এবং তার মেধার বিকাশ ঘটাতে পারবে।

আপনি নিজেই চিন্তা করুন যে একটি সিভি তৈরি করতে নিজের মেধাকে কাজে লাগায় না সে অন্য একটি কোম্পানির কি কাজ করে দিবে । এই মেধার সঠিক ব্যবহার না করা এবং শিক্ষা অর্জন না করার কারনে আজ দেশে হাজারো যুবক রয়েছে বেকার।

কিন্তু এদিকে কোম্পানি সঠিক ব্যাক্তিকে খুজে পাচ্ছেনা। তাই নতুন কিছু শিখুন যেটি আপনার ভবিষ্যৎকে সুন্দর করবে। সাথে নিজের মেধার বিকাশ ঘটানোর চেষ্টায় থাকুন দেখবেন চাকরি আপনাকে খুজে নিবে। ক্যারিয়ার কাকে বলে

৫.সময়ের সঠিক ব্যবহার 

এই বিষয়টি থেকে আমরা প্রায় বেশীরভাগ মানুষ একদম পিছিয়ে। সময়ের সঠিক ব্যবহার আমরা করতে জানিনা। আড্ডার সময় আমাদের খেয়াল থাকেনা যে, এই পৃথিবীতে প্রতিটি সেকেন্ডের অনেক মূল্য রয়েছে।

আপনাকে টাইম ম্যানেজমেন্ট খুব ভালভাবে শিখতে হবে। কাজের জন্য সঠিক সময় নির্ধারণ করুন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করুন দেখবেন সফলতা খুব তাড়াতাড়ি ধরা দিয়েছে।

আপনি আপনার ক্যারিয়ার ঘঠন করার জন্য যদি প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে সময় নির্ধারণ করেন তাহলে সেই সময় টুকু অন্য কোন কাজে ব্যয় না করে নিজের কাজের প্রতি ব্যয় করার অভ্যাস গড়তে তুলুন।

মনে রাখবেন এই পৃথিবীতে সময়ের যে সঠিক ব্যবহার করতে পারে সেই মূলত সফল হতে পারে না হলে বেলা শেষে সব কিছু শুন্য।

৬. অগ্রাধিকার নির্ধারন করা

সঠিক সময়ে সঠিক কাজ সম্পাদন করাকেই অগ্রাধিকার বলে হয়। অনেকে আছেন বিশেষ করে তরুন সমাজ যারা তাদের ক্যারিয়ার এর সুবর্ণ সময় নষ্ট করে ফেলে তাদের কাজ গুলো সঠিক সময়ে না করে অন্য কোন সময় করে।

কোন কাজের জন্য সঠিক সময় নির্ধারণ করার সেই কাজটি সঠিক সময়ে করার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে হবে। যেমন আপনি একটি কাজ সম্পাদন করার জন্য সময় নির্ধারণ করলেন সকাল ১০ থেকে দুপুর ১২ টা।

কিন্তু আপনি সেই কাজ বিকেল ৩ থেকে ৫ এর মধ্যে করলেন যার ফলে আপনার সময়ের কাজ সময়ে হলোনা এমনকি আপনি বিকেল ৩ থেকে ৫ এর মধ্যে যে কাজ করার জন্য যে প্লান করে রেখেছিলেন সেটিও কিন্তু করতে পারলেন না।

তাই আপনাকে আপনার কাজের প্রতি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে নিতে হবে তাহলে আপনি ক্যারিয়ারে অনেক ভালো কিছু করতে পারবেন। সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করার অভ্যাস গরে তুলতে হবে।

৭. নীতি নির্ধারণ বা সমাজের অবস্থা বিবেচনা করা

সার্ভিক দিক দিয়ে বিবেচনা করার পর সমাজের বা ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা থেকে আপনার নীতিকে কোন ভাবে বিঘ্ন করা যাবেনা সব সময় নিজের উপর বিশ্বাস এবং ভরসা থাকতে হবে। কোন ধরনের অসৎ কাজের প্রতি অগ্রসর হওয়া যাবে না। মূল কথা আপনি যে উদ্দেশ্যে নিজের ক্যারিয়ার দ্বার করাতে চান সেটির উদ্দেশ্য সৎ হতে হবে।

৮. অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো

প্রতিটি মানুষের অতিত রয়েছে যেখানে সফলতা এবং বিফলতা সব কিছুই রয়েছে। মনে রাখবেন নিজের অতিত কে সব সময় মনে রাখবেন কারণ অতিত মানুষের জীবনে অনেক কিছু শিক্ষা দিয়ে যায়।

আপনি আপনার লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করে এগিয়ে যাওয়ার সময় অনেক ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হবে এবং সেই প্রতিকূল পরিবেশ থেকে আপনি যে শিক্ষা অর্জন করবেন অর্থাৎ যে ভুল গুলোর সম্মুখীন হবেন সেটি থেকে শিক্ষা অর্জন করবেন এবং পরবর্তী সেই ভুল যেন না হয় সেটি খেয়াল রাখতে হবে।

তাছাড়াও ভবিষ্যতে কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে অতিত এর সব কিছু পর্যালোচনা করে অর্থাৎ অতিতের অভিজ্ঞতা কে কাজে লাগিয়ে সেই সমস্যা থেকে উত্তরন হওয়া সম্ভব।

৯. হতাশাগ্রস্থ না হওয়া

হতাশা বিষয়টি এমন এক বস্তু যেটি সবার কাছেই একবার হলেও এসে উকি দেয়। যে এই হতাশা থেকে নিজেকে বের করে সামনের দিকে চলতে থাকে সে সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌঁছে যায়। কিন্তু যে, হতাশ হয়ে সব কিছু বাদ দিয়ে দেয় যে এটি আর আমার দারা সম্ভব হবেনা সে সে অচিরেই বিফল হয়ে যায়।

পৃথিবীতে যত গুলো মানুষ তার সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌঁছেছে তাদের প্রতি জনের কাছে হতাশা দেখা দিয়েছে কিন্তু তারা সেই হতাশাকে পেছনে ছেড়ে সমানের দিকে অগ্রসর হয়েছে যার ফলে আজ তারা বিশ্বের সবার কাছে পরিচিত।

উদাহরণ স্বরূপ স্টিভ জবস যে কিনা বিশ্বের সব চেয়ে বড় কোম্পানি অ্যাপলের মালিক। তাকে কিন্তু তার নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে বেড় করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি হতাশ না হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছেন যার ফলে আজ তিনি বিশ্বের সবার কাছে পরিচিত।

যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি কাজ শুরু করলে প্রতিটি মানুষকে হতাশার সম্মুখিক হতে হয়। যে হতাশার হাত ছানি পিছনে ফেলে সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারে সেই কিন্তু সফল হয়। তাই কিছুতেই হতাশা গ্রস্থ হওয়া যাবেনা।

১০. ভাগ্যের উপর বিশ্বাস

প্রতিটি মানুষের তার ভাগ্যের উপরে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি মানুষকে সৃষ্টি করছেন ভাগ্য নির্ধারণ করে, সে যে কোন ধর্মের হতে পারে। তাই প্রতিটি মানুষকে তার ভাগ্যকে বিশ্বাস করতে হবে এবং চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে সাথে সৃষ্টি কর্তার কাছে দোয়া-প্রার্থনা করতে হবে।

এই কয়েকটি কাজের পাশাপাশি আপনাকে কিছু দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যেমন,

  • তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে আপনার কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করার প্রতি সাধারণ ধারণা থাকতে হবে।
  • সঠিক নিয়মে ই-মেইল লেখা এবং পাঠানোর দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
  • স্প্রেসশীট ব্যবহার করা শিখতে হবে কারণ অনেক সময় অনেক কিছু লিখে রাখতে হবে এবং হিসাব করতে হয়। যেমনঃ মাইক্রোসফট এর সমস্ত প্রগ্রাম এবং কম্পিউটার মাল্টিমিডিয়া ও সফটওয়্যার এর ব্যবহার।
  • আপনার কমিউনিকেশন স্কিল অনেক ভাল থাকতে হবে। যে কারো সাথে কথা বলতে যেন কোন ধরনের জড়তা কাজ না করে।
  • বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট লেখার ধারণা থাকতে হবে কারণ কাজের ক্ষেত্রে অনেক ধরনের অনেক ধরনের রিপোর্ট জমা করে রাখার প্রয়োজন হয়।
  • যে কোন পরিস্থিতিতে সমস্যা সমাধান করার মত ক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
  • নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

শেষ কথা

আশা করছি আপনি জেনে গিয়েছেন ক্যারিয়ার কাকে বলে এবং ক্যারিয়ার সুন্দর ভাবে গঠন করতে হলে আপনাকে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে সব কিছু বিস্তারিত ভাবে বুঝে গিয়েছেন ।সঠিক ক্যারিয়ার কিভাবে গঠন করতে হয় শুরু পড়লে এবং জানলে হবেনা আপনাকে নিজে সেটি নিয়ে কাজ করতে হবে।

এই আর্টিকেলটি অন্য কাওকে পড়ার জন্য সুযোগ করে দিন। এর জন্য আপনাকে অবশ্যই শেয়ার করতে হবে।

আপনি ক্যারিয়ার যদি অনলাইন ভিত্তিক করতে চান তাহলে কিছু আর্টিকেল আপনি পড়তে পারেন।

শেয়ার করুন

নির্ঝর ফারুক

প্রযুক্তি প্রেমী মানুষের মধ্যে আমিও একজন। ছেলেবেলা থেকেই প্রযুক্তির সাথে জড়িয়ে রয়েছি এবং অনেক কিছু শিখেছি ও এখনো শিখছি। যে বিষয় গুলো জানি সেই বিষয় গুলো নিয়েই মূলত এই ওয়েবসাইটে লেখালেখি করি। টেকজোন বাংলার একমাত্র সত্ত্বাধিকারী আমি নির্ঝর ফারুক সক্রিয় থাকবো আপনার সাথে ইনশাল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *