তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কি ? তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কি -বর্তমান বিশ্ব প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির দিক দিয়ে এগিয়ে চলেছে আর তারই ক্রম ধারাকে বজায় রেখে মানুষ প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রস্তুত করে চলেছে। এর মধ্যে আবার অনেকে রয়েছেন যারা তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে তেমন বেশী জানেনা। তাই আজ তাদের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কি এবং সেই সাথে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার সহ সমস্ত কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

এই আর্টিকেলটি বিশেষ করে যারা স্টুডেন্ট তাদের জন্য অনেক বেশী উপকারী হতে চলছে কারণ এই আর্টিকেলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে যত প্রশ্ন রয়েছে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর ধাপে ধাপে সাজানো হয়েছে।

তাছাড়াও অন্যান্য সবাইল এই আর্টিকেলটি অনায়াসে পড়তে পারেন কারণ এই আর্টিকেল এমন ভাবে সাজানো যে, সবাই খুব সহজেই সমস্ত কিছু বুঝতে পারবেন আর তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে কোনো প্রকার দ্বিধার সৃষ্টি হবেনা।

দেখুন প্রযুক্তির অগ্রগতিকে বজায় রেখে যখনই মানুষ তাদের নিজেদের জীবনকে পরিবর্তন করা শুরু করবে তখন থেকেই কিন্তু অনেক বেশী উন্নত হতে পারবে। তাই আমি নিজে থেকে মনে করি যে এই সময়ে প্রতিটি মানুষের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা অনেক বেশী জরুরী। তাহলে চলুন এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করি,

আর্টিকেল সূচনা

তথ্য কি ?

তথ্য যাকে ইংরেজিতে বলা হয় ইনফরমেশন ( Information )। সাধারণ ভাবে বলা যায় যে কোনো তথ্য বহুল বার্তাকে তথ্য বলা হয়। তথ্য ঘঠন হয় অনেক গুলো ডেটার সমন্বয়ে। বিশেষ করে যখন ডেটা গুলোকে প্রক্রিয়া করণ করা হয় তখন সেটি তথ্যে পরিণত হয়।

ডাটা ( DATA ) হচ্ছে তথ্যের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ। যেমন আপনি যদি কোন কাজের জন্য একটি ফর্ম পূরন করেন উদাহরণ স্বরূপ জন্ম নিবন্ধন এর জন্য যে ফর্মটি জমা দেয়া হয় সেটিতে কিন্তু একজনের সমস্ত তথ্য দিয়ে দিতে হবে।

শুধু যদি নাম লিখে দেয়া হয় তাহলে কিন্তু এক জনের পরিচয় বহন করবেনা। কারণ একই নাম অনেকের রয়েছে। আর যখন পরিবারের সবার নাম সহ নিজের গ্রামের নাম, পোস্ট সমস্ত কিছু দিয়ে দেয়া হয় তখন একটি অর্থ বহুল তথ্যে পরিণত হয়।

আর এই যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ডাটা যেমন আপনার নাম, আপনার পিতার নাম, গ্রাম, পোস্ট সমস্ত কিছু মিলেই কিন্তু তথ্যে পরিনিত হলো।আশা করছি ডাটা কি সেটি বুঝে গিয়েছেন।

তথ্য -উদাহরণ

মনে করুন আপনি একজন ব্যাক্তির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন এখন সময় কত? তখন তিনি যে উত্তরটি দিবেন সেটি হচ্ছে তথ্য। এটি তথ্য হওয়ার কারণ হচ্ছে এটিকে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে। যখন কিছু ডাটা মিলে অর্থে পরিনত হয় তখন তাকেই তথ্য বলে।

ধরুন আপনি একটি শার্ট কিনতে গেলেন এবং দোকানদারকে একটি শার্ট দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলেন শার্টের দাম কত? দোকানদার কিন্তু নির্দিষ্ট একটি দাম বলে দেবে। এই যে দাম বলে দিলো এটিও একটি তথ্য।

বাড়ি থেকে কেও বেড় হলো এবং আপনি তাকে বললেন ভাই কোথাও যাওয়া হচ্ছে? তিনি অবশ্যই একটি জায়গার নাম বলবে এটিও একটি তথ্য। এমন হাজার রকমের তথ্য রয়েছে।

প্রযুক্তি কি ?

বিভিন্ন যন্ত্র এবং প্রাকৃতিক বিষয় বস্তুর সঠিকভাবে প্রয়োগ করার যে ব্যবহারিক জ্ঞান রয়েছে সেটি হচ্ছে প্রযুক্তি। মানব সমাজে প্রযুক্তি বলতে বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটি ফলাফল মাত্র।

প্রযুক্তি বলতে মানুষ তার নিজস্ব কাজের জন্য বিভিন্ন যন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে প্রাকৃতিক উপাদান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান আহরণ এবং প্রয়োগ করে নতুন কিছুর উদ্ভাবন এবং দক্ষ ভাবে ব্যবহার করার ক্ষমতা।

সাধানরন ভাবে যদি প্রযুক্তির কথা বলা হয় তাহলে মানুষের নিত্য প্রয়োজনে ব্যবহার করা প্রতিটি যন্ত্রকেই বুঝিয়ে থাকে। যেমন আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি কিন্তু প্রযুক্তির একটি ফল।

প্রযুক্তি -উদারহন

উদাহরণ হিসাবে আমরা মোবাইল, টিভি, কম্পিউটার, ক্যামেরা, স্যাটালাইট সিস্টেম, নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট, রোবট ইত্যাদি সমস্ত কিছুই হচ্ছে প্রযুক্তি।

তথ্য প্রযুক্তি কাকে বলে ?

যে প্রযুক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে তথ্য খুব তাড়াতাড়ি আহরণ করা যায় এবং প্রয়োজনের জন্য সংরক্ষণ, আপডেট বা আধুনিকীকরন, ব্যবস্থাপনা ও বিতরন করা হয় তাকে তথ্য প্রযুক্তি বলে।

এই তথ্য প্রযুক্তিকে ইংরেজি ভাষায় ইনফরমেশন টেকনোলোজি ( Information Technology ) বলা হয় যাকে ছোট করে আইটি ( IT ) বলা হয়ে থাকে।

যোগাযোগ প্রযুক্তি

তথ্যকে আদান প্রদান করার জন্য যে যান্ত্রিক মাধ্যম ব্যবহার করা হয় তাকে প্রযুক্তি বলে। কম্পিউটারের উপর নির্ভর করেই সারা বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেশী লক্ষ্য করা যায়। আর তথ্য প্রযুক্তির মূলে যেটি রয়েছে সেটি হচ্ছে ইন্টারনেট

ইন্টারনেট শব্দটির পুরো নাম হচ্ছে ইন্টারকান্টেড নেটওয়ার্ক ( InterConntected Network ) অন্য কথা বলা হয় নেটওয়ার্ক এর নেটওয়ার্কই হচ্ছে ইন্টারনেট। এটা এখন পুরো পৃথিবীকে ঘিরে রেখেছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে সংক্ষেপে আইসিটি ( ICT ) বলা হয়ে থাকে। প্রকৃতপক্ষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এমন মাধ্যম যেখানে মূলত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো হয়ে থাকে। এটি এমন এক মাধ্যমে যেখানে এক জন ব্যাক্তি খুব সহজেই কম্পিউটার, মোবাইল, টেলিযোগাযোগ, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরণের তথ্য সংরক্ষন করে রাখে এবং সেই তথ্য যেকোনো সময় চাইলে ডিলিট, বিশ্লেষণ সমস্ত কিছু করা সম্ভব হয়।

এই তথ্য ও যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সরাসরি ডেটাকে ট্রান্সফার করা অতি সহজ হয়ে গিয়েছে তাই চাইলে যেকোনো প্রান্ত থেকে একজন ব্যাক্তি অন্য জনের সাথে খুব সহজেই যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছে এবং চাইলেই যেকোনো কিছু পাঠিয়ে দিতে পারছে।

সহজ ভাষায় যদি বলা হয় তাহলে এটি হচ্ছে তথ্য এবং প্রযুক্তির একটি সমন্বয় মাত্র যেখানে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তথ্যের আদান প্রদান হয়ে থাকে। আর সেটি যেকোনো তথ্য হতে পারে। হতে পারে কম্পিউটারের ভাষা অথবা হতে পারে স্পেসের স্যাটালাইটের পাঠানো তথ্য।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এমন এক মাধ্যম যেখানে শুধু ডেটা এর সমন্বয়ে তথ্য গুলোর আদান প্রদান হয়ে থাকে শুধু যে আদান প্রদান হয় সেটি বললে ভুল হবে কারন ডাটা গুলোকে খুব সহজেই সেভ করে রেখে সেটি পরবর্তিতে ব্যবহার করা যায়।

তথ্য প্রযুক্তির সর্ট ফর্ম আইসিটি শব্দটি প্রথম উত্থান হয় ১৯৮০ সালের দিকে এবং পরবর্তিতে এটি ১৯৯৭ সালে অনেক বেশী জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং শব শেষে এই শব্দটি ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যের জাতীয় পাঠ পুস্তকে লিপিবদ্ধ করা হয়।

বর্তমানের এই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রচুর পরিমাণে অর্থের খরচ কমে গিয়েছে কারণ সমস্ত কাজ এখন অনেক বেশী সহজ হয়ে গিয়েছে শুধু মাত্র এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কাকে বলে ?

প্রযুক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে যে কোনো তথ্যের আদান-প্রদান, সংরক্ষণ, একত্রি করণ, প্রক্রিয়া করণ, বিশ্লেষণ, পরিবর্তন করার মাধ্যমকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা ইনফরমেশন কমিউনিকেশন এন্ড টেকনোলজি বলে। সংক্ষেপে যাকে বলা হয়ে থাকে আইসিটি ( ICT = Information Communication and Technology )।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার

বর্তমান এই সময়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অনেক বেশী ব্যবহার শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন ঘুম থেকে ওঠা শুরু করেই আমাদের সর্বদা প্রযুক্তির সাথে দেখা হচ্ছে। নিজের হাতে থাকা মোবাইল, কম্পিউটার, হাতের ঘড়ি সমস্ত কিছুতেই প্রযুক্তি।

উদারহণ স্বরূপ দেখুন,

  • মোবাইল ফোন ব্যবহার করে খুব সহজেই পরীক্ষার ফলাফল থেকে শুরু করে খেলার স্কোর, মুভি দেখা, গান শোনা, বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখা সমস্ত কিছু করা যাচ্ছে এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
  • এখন খুব সহজেই ঘরে বসে টাকা লেনদেন করা যাচ্ছে।
  • চাইলেই পৃথিবীর যে কোনো জায়গা দেখা যাচ্ছে।
  • এখন অনলাইন বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে খুব সহজেই চাকরির জন্য আবেদন করা যাচ্ছে।
  • ঘরে বসেই প্লেনের টিকেট সংগ্রহ করা যাচ্ছে।
  • চাইলেই ঘরে বসে খাবার সহ যাবতীয় সব পন্য অর্ডার করা যায়।
  • মোবাইল ব্যবহার করে যেকোনো বই পড়া যায়।

বিবেচনা দেখা যায় যে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সমস্ত কাজেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ছোঁয়া রয়েছে। এখন সমস্ত ক্ষেত্রেই ব্যবহার হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি। বিস্তারিত দেখতে থাকুন,

শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার

প্রযুক্তি গত জ্ঞান এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। অ্যাসাইনমেন্ট থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সমস্ত কাজ এখন কম্পিউটার এবং মোবাইল ব্যবহার করে করা হচ্ছে।

শিক্ষা জীবনকে অনেক বেশী সহজ করে তুলেছে আর সহজ করে তোলার পেছনে রয়েছে শিক্ষা খাতে নতুন নতুন সব সফওয়্যার উদ্ভাবন। এটি সমস্ত কাজ গুলোকে অনেক গুছিয়ে নিয়েছে।

বর্তমান সময়ে মোবাইল এবং কম্পিউটার ব্যবহার করে ইন্টানেটের সুবিধায় ঘরে বসেই বিভিন্ন টপিক নিয়ে অনলাইনে ক্লাস করার মত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে যার ফলে আলাদাভাবে কোথাও টিউশন নিতে হচ্ছেনা।

যেকোনো নোটস বা তথ্য সুরক্ষিত রাখা যায় খুব সহজেই। চাইলেই অনলাইন লাইব্রেরি থেকে যেকোনো বই পড়া যায় এবং মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে সরাসরি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে ক্লাসে উপস্থিত থাকা যায়।

সমস্ত কিছু যাচাই বাছাই করে অতি সহজেই একটি ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহন করা যায়। বর্তমান সময়ে ক্লাস রুম গুলোতে কম্পিউটার ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরণের ক্লাস নেয়া হয় যাকে আমরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নামে চিনে থাকি।

মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করার মাধ্যমে খুব সহজেই প্রজেক্টর ব্যবহার করে বিভিন্ন বিষয়ের খুটিনাটি সহজেই পাঠদান করা করা যায়। এক কোথায় বলতে গেলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষা খাতে অনেক বেশী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার

চিকিৎসা খাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি যেনো এক অনাবিল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। চিকিৎসা থেকে শুরু করে রোগ নিরাময়য় সমস্ত খেত্র অনেক বেশী সহজ হয়ে উঠেছে। এক সময় কোন রোগ হয়ে আন্দাজ করে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে হত কিন্তু বর্তমানে কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে খুব সহজেই রোগ নির্ণয় করা যাচ্ছে এবং সেই রোগের জন্য সঠিক চিকিৎসা প্রদান করা অনেক বেশী সহয হয়ে উঠেছে।

এক সময় মানুষ ছিল কুসংস্কারের মধ্যে নিমজ্জিত কারণ বেশীরভাগ চিকিৎসা করিরাজ, ওঝা দের দিয়ে করানো হত কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আসার পরে মানুষের মধ্যে আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

যত দিন যাচ্ছে তত বড় বড় রোগ মানুষের শরীরে বাসা বাদছে আর এই আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আসার ফলেই সমস্ত রোগ নিরাময় করা অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। খুব তাড়াতাড়ি রোগ নির্নয় এবং নিরাময় করা অনেক বেশী সহজ হয়ে উঠেছে।

চাইলেই যেকোনো রোগের কারণ, লক্ষন, চিকিৎসা সমস্ত কিছুর তথ্য সার্ভারে জমা রেখে পরবর্তিতে ব্যবহার করা যায়। শুধু তাই নয় মানুষের শরীরের অস্ত্রপচার করা থেকে মানুষের শরীরে কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মত কাজও করা যাচ্ছে।

ব্যাক্তির চাহিদা অনুসারে অশুধ প্রদান করা যাচ্ছে। ক্যান্সারের মত অসুখের চিকিৎসা করা যাচ্ছে। এমন অনেক কিছু যুক্ত হয়েছে আধুনিক চিকিৎসা খাতে। এখন চাইলেই ঘরে বসে ভালো ডাক্তারের কাছে থেকে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করা যাচ্ছে।

  • দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়
  • তথ্য প্রযুক্তি যোগদান
  • ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড
  • বৈদ্যুতিন স্বাস্থ্য রেকর্ডের লাভ
  • রোগীর তথ্য রেকর্ডে থেকে যায়
  • ব্যয় এবং পরিশ্রম
  • কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপন
  • রোবোটিক অস্ত্রোপচার
  • ব্যক্তির চাহিদানুসারে ওষুধের ব্যবস্থা

কৃষি ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার

আমাদের এই হচ্ছে কৃষি প্রধান দেশ আর আমাদের এই দেশের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস্য হচ্ছে কৃষি। সেই আদিম সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় কৃষিতে এসেছে আমূল পরিবর্তন।

এক সময় কৃষি কাজ করাটা অনেক বেশী কষ্টসাধ্য ছিল কারণ জমি চাষ করা থেকে শুরু করে পানি সেচ ব্যবস্থা ও রোগ নিরময় কোনো কিছু সহজ ছিলোনা। এমন অনেক ঘটানা রয়েছে অনা বৃষ্টির কারনে প্রচুর পরিমাণ জমিতে ফসল ফলেনি যার ফলে মানুষকে পড়তে হয়েছে অভাব অনটনে।

কিন্তু আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা সমস্ত কিছুকেই পিছনে রেখে এসেছে। জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করার জন্য তৈরি হয়েছে রাসায়নিক সার, জমিতে সেচ দেয়ার জন্য আধুনিক সব যন্ত্র সেই সাথে ফসলের জাত উন্নয়ন।

এক সময় দেখা যেত একটি জমিতে যদি পোকার আক্রমণ হত তার আশেপাশের সব জমি গুলোর ফসল পোকা নষ্ট করে ফেলত কিন্তু এখন ক্ষতিকর পোকা গুলো খুব সহজেই দমন করা সম্ভব হচ্ছে। হার্ভেস্টিং থেকে শুরু করে জমিতে বীজ ছিটানো সমস্ত কিছুই করা হচ্ছে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করার মাধ্যমে।

কৃষিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির এত বেশীর প্রসার ঘটেছে যে ফসলের এবং গাছের জিন পর্যন্ত পরিবর্তন করে ফেলা হচ্ছে। মাছ চাষ থেকে শুরু করে পশু পালন সমস্ত যায়গায় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

পুকুরে মাছ চাষ করার জন্য সেই পুকুরে কোন জাতের মাছ চাষ করতে হবে, পানিতে কি পরিমাণ অক্সিজেন থাকতে হবে এবং কোন রোগ হলে কোন ঔষধ খাওয়াতে হবে সমস্ত কিছুই এখন প্রযুক্তি ব্যবহার করে করা হচ্ছে।

গোপনে কেও কল রেকর্ড করলে বোঝার উপায়

যোগাযোগ ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার

আধুনিক বিজ্ঞান যেন যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অনেক বেশী পরিবর্তন করে ফেলছে। আমরা যদি একটি পিছে তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে আমাদের যারা পূর্ব পুরুষ ছিলো তারা যেভাবে যোগাযোগ করতো আজ তার একদম ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছি আমরা।

ইতিহাসের পাতা থেকে আমরা জানতে পাইযে এক সময় যখন কারো সাথে যোগাযোগ করার দরকার ছিলো তখন নিজে পায়ে হেটে গিয়ে যোগাযোগ করতো হত অথবা পাথর এবং গাছের গায়ে চিনহু একে রাখা হতো।

তারপর যখন মানুষ একটু বুঝতে শুরু করে তখন চিঠির আগমন ঘটে, মানুষ দিয়ে, ঘোড়ার পিঠে বেধে এমনকি কবুতর ব্যবহার করে চিঠি আদান প্রদান করা হত কিন্তু এখন দেখুন সেগুলো একদম বিলুপ্ত হয়ে নতুন সব পন্থা তৈরি হয়ে গিয়েছে।

এখন তাইলেই হাতের মোবাইলটি ব্যবহার করেই খুব সহজেই এবং অল্প সময়ের মধ্যে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যোগাযোগ করা অনেক বেশী সহজ হয়ে উঠেছে। চাইলেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে এক দিনের মধ্যে ভ্রমন করা যাচ্ছে আর এর জন্য তৈরি হয়েছে প্লেন। দ্রুত যোগাযোগ এবং যাতায়াত করার জন্য তৈরি হয়েছে মোটর সাইকেল, বাস, এবং বিভিন্ন আধুনিক যানবাহন।

এখন তথ্য আদান প্রদান একদম সহজ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের উপহার দিয়েছে ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডিন এর মত অনেক রকম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যা ব্যবাহার করে শুধু যোগাযোগ নয় নিজের এক্টিভিটি অন্যদের সাথে শেয়ার করা যাচ্ছে অতি সহজেই।

চাইলেই বিদেশে থাকা কারো সাথে ঘরে বসেই ভিডিও কলে কথা বলা যাচ্ছে। তাই বলা যায়যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি যোগাযোগ ক্ষেত্রে অনেক বেশী কিছুই উপহার দিয়েছে।

কর্ম ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার

যখন প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয় তখন অনেকের ধারণা ছিল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বেকারত্ব অনেক বেশী বেড়ে যাবে। কিন্তু পরবর্তিতে দেখা গেলো সেই ধারণা একেবারেই ভূল ছিল কারণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন হওয়ার কারনে শুধু কাজের ধরন পরিবর্তন হয়েছে।

এখন মানুষ চাইলেই ঘরে বসে ফ্রিলান্সিং করে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করতে পাচ্ছে। উদারহণ স্বরূপ যদি বলা হয় তাহলে মোবাইল এর কথা বলা যায়, একটি মোবাইল তৈরি করা থেকে শুরু করে বিপণন এবং বিক্রি সমস্ত ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা কর্মি দরকার হচ্ছে।

যেমন মোবাইলের মধ্যে থাকা ক্যামেরা তৈরি, চিপ্সেট তৈরি, প্রসেসর তৈরি, সার্কিট তৈরি, ব্যাটারি তৈরি, কাভার তৈরি, ডিসপ্লে তৈরির সমস্ত কাজেই কিন্তু আলাদা আলাদা কর্মি দরকার হচ্ছে। সেই সাথে মোবাইলটি ফিটিং করা শুরু করে সেই মোবাইল দেশ থেকে অন্য দেশে পাঠানো সেই সাথে বিভিন্ন দোকানে দেয়া থেকে শুরু করে বিক্রি সমস্ত যায়গাতেই কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ঘরে বসেই ব্যবসা করে টাকা ইনকাম করা যাচ্ছে। তাই বলা যায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কর্ম ক্ষেত্রে অনেক বেশী ব্যবহার করা শুর হয়েছে। উদাহরণ দিলে শেষ করা যাবেনা।

ব্যক্তিগত জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার

ব্যাক্তি জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রতিফলন খেয়াল করলে দেখা যাবে দিনের শুরু থেকে শেষ অব্দি পুরো সময়টি প্রযুক্তির মধ্যে ডুবে আছি আমরা। যোগাযোগ করা থেকে শুরু করে সময় দেখা সমস্ত কিছু এখন মোবাইল ব্যবহার করেই করা হচ্ছে।

কোথাও চাকরির জন্য আবেদন করতে আমাদের আর দূরে কোথাও যাওয়ার দরকার হয়না বরং ঘরে বসেই সমস্ত চাকরির জন্য আবেদন করা যাচ্ছে অতি সহজেই। শরীরে কোন একটি রোগের লক্ষন দেখা দিলে ইউটিউব অথবা গুগল থেকে সার্চ করে কি রোগ হতে পারে জানতে পাচ্ছি ও কোথা থেকে চিকিৎসা করা যাবে সমস্ত তথ্য মূহুর্তেই পেয়ে যাচ্ছি।

চাইলেই ঘরে বসে টাকার লেনদেন করা যাচ্ছে। দেশের বাইরে যেতে চাইলে রয়েছে ই-টিকেটিং এর ব্যবস্থা যেটি মোবাইল ব্যবহার করেই করা সম্ভব। চাইলেই নিজের পছন্দের খাবার কিনতে পারছি ও যেকোন পন্য অর্ডার দিতে পারছি আবার সেটি বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

ঘরে বসেই পৃথিবীর যেকোনো লাইব্রেরি থেকে বই পড়তে পারছি। সব মিলিয়ে যদি দেখা যায় তাহলে ব্যাক্তি জীবনের প্রায় পুরোটা জুরেই রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার।

বিনোদনের ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার

চাইলেই মূহুর্তের মধ্যে মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করে গান শুনতে পারছি অতি সহজেই। ইউটিউবের মত এমন একটি জায়গা তৈরি হয়েছে যেখানে চাইলে বিনোদন নেয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ ধরণের ভিডিও দেখা যাচ্ছে।

দেখুন বিনোদনের বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে কারণ ভিন্ন মানুষের ভিন্ন চাহিদা। কেওন কবিতা শুনে বিনোদন নিয়ে থাকে, কেও গান শুনে আবার কেও মুভি নাটক দেখে। যে যেভাবেই বিনোদন নিতে ইচ্ছুক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সব কিছু অতি শহজ হয়ে উঠেছে।

এখন চাইলেই ঘরে বসে যেকোন গেমস খেলা যাচ্ছে। আপনি চাইলেই ঘরে বসে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের মানুষের সাথে যুক্ত হয়ে গেমস খেলতে পারবেন এবং নিজেরদের মধ্যে কমিউনিকেশন করতে পারছেন।

ঘরে রয়েছে টেলিভিশন, কম্পিউটার, মোবাইল ইন্টারনেট যা ব্যবহার করে নিজের অভিরুচির উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরণের অডিও ভিডিও দেখে বিনোদন নেয়া অনেক বেশী সহজ হয়ে উঠেছে। একই গ্রুপে থেকে বন্ধু এবং পরিবারের সাথে একটি মাত্র ডিভাইসের মধ্যে যখন ইচ্ছা তখন আড্ডা দেয়া সম্ভব হয় উঠেছে।

গবেষণায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার

এক সময় গবেষণার কাজ অনেক বেশী কঠিন এবং কষ্টের ছিল কারণ চাইলে অতি সহজেই যেকোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যেতনা আবার তথ্য গুলোকে সংরক্ষণ করে রাখা সম্বভব হয়ে উঠতোনা। কিন্তু এখন চাইলেই যেকোন তথ্য ইন্টারনেট ব্যবহার করে মূহুর্তের মধ্যেই সংরক্ষণ করা যাচ্ছে।

কোনো একটি বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু করলে সেই বিষয়ের তথ্য, জ্ঞান সমস্ত কিছু জোগাড় করা অতি সহজ হয়ে উঠেছে আর এর পেছনে রয়েছে বিভিন্ন যন্ত্র পাতির অবধান। একন দেখুন নাসা পৃথিবীর এবং পৃথিবীর বাইরে কি রয়েছে এমনকি চাদের মধ্যে কি রয়েছে সেটিও বলে দিচ্ছে শুধু মাত্র এই যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করেই।

রোগ নিরাময়ের জন্য কোনো একটি ঔষধ নিয়ে যখন গবেষণা করা হয় তখন সেই ঔষধ কেন ব্যবহার করা হবে সেই সাথে কি কি উপাদান লাগবে এবং কতদিন পর্যন্ত মেয়াদ থাকবে সব কিছু আগে থেকেই ঠিক করে দেয়া সম্ভব হয়ে উঠেছে। তাছাড়াও চাইলেই ভবিষ্যতের জন্য তথ্য জমা রাখা যাচ্ছে।

এখন তৈরি হয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যেটি ব্যবহার করে ভবিষ্যতের ধারণা দেয়া সম্ভব হয়ে উঠেছে। এক কোথায় বললে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সভ্যতার জন্য এক আমূল পরিবর্তন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধা

  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজেই কমিউনিকেশন এবং ডেটা স্থানান্তর অনেক বেশী সহজ হয়ে উঠেছে।
  • ডেটা ট্রান্সমিশন অধিক গতিতে হয়ে থাকে।
  • নেটওয়ার্ক অনেক বেশী উন্নত হয়েছে যেমন ৫জি ও ব্রডব্যান্ড।
  • কাজের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে আগের চাইতে অনেক বেশী।
  • একদম অল্প সময় ব্যয় করেই তথ্য এক যায়গা থেকে অন্য যায়গায় পাঠানো যাচ্ছে।
  • শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই ক্লাসে অংশ গ্রহন করতে পারছে।
  • চাইলেই ঘরে বসে যেকোনো কিছু কেনাকাটা করা অনেক বেশী সহজ হয়ে উঠেছে।
  • মানুষের শক্তির অপচয় কম হচ্ছে।
  • দিন দিন মানুষ সব কাজের প্রতি দক্ষ হয়ে উঠছে।
  • খুব সহজেই তথ্য সংগ্রহ ও বিপণন করা যাচ্ছে।
  • ইন্টারনেট ব্যবহার করে আয় করা যাচ্ছে।
  • অফিসের হিসাব নিকাশ থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু অতি সহজেই করা যাচ্ছে।

তথ্য প্রযুক্তির উদাহরণ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উদাহরণ দিতে গেলে হয়তো শেষ করা যাবেনা কিন্তু তারপরে কিছু উদারহণ দেয়ার চেষ্টা করছি,

  • কম্পিউটার এবং নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা
  • ইন্টারনেট
  • আধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা
  • কম্পিউটার
  • মোবাইল
  • ভিডিও, অডিও কনটেন্ট
  • স্যাটালাইট
  • টেলিভিশন
  • রেডিও
  • ওয়েবসাইট
  • মোবাইল অ্যাপ
  • কম্পিউটার সফটওয়্যার
  • ইমেইল
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • প্লেন
  • ক্যামেরা ইত্যাদি।

শেষ কোথা

আজকের এই আর্টিকেলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কি কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে সেই সাথে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে যে সমস্ত তথ্য জানা দরকার তার সমস্ত কিছু ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে।

আশা করছি এই লেসনটি ভালোভাবে পরে থাকলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কি সেই নিয়ে কোন প্রকারের দ্বিধা থাকবেনা। এই আর্টিকেলটি কেমন লেগেছে সেটি অবশ্যই কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন।

সেই সাথে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেননা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *