৫জি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ । কিভাবে কাজ করে ও সুবিধা অসুবিধা

৫জি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ -প্রযুক্তির উন্নয়ন আজ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে এখন অসাধ্য যেন অনেক বেশী সাধ্যের কাছে চলে এসেছে আর তারই এক উপাদান হচ্ছে জাকের ৫জি নেটওয়ার্ক। মানুষের চাহিদা এবং যুগের ধারা বজায় রেখে তৈরি হয়েছে ৫জি নেটওয়ার্ক।

এক সময় মানুষের চলাচল থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু এনালগ পদ্ধতিতে ছিল। চাইলেই কোন প্রকার তথ্য সহজে খুঁজে পাওয়া যেতনা। কিন্তু যখন প্রযুক্তির উন্নয়ন হল এবং টেলিফোন, মোবাইল ফোন আবিস্কার হল তার পিছে পিছে আবিস্কার হল নেটওয়ার্ক।

আর তখন থেকেই মানুষের তথ্য আদান প্রদান হাতে নাগালে চলে এসেছিলো এবং এটি ছিল তখনকার সময়ে এক অভাবনীয় আবিস্কার।প্রথম যুগে যদিও টেলি নেটওয়ার্ক শুধু কথা বলার কাজে ব্যবহার করা হত।

কিন্তু পরবর্তিতে এটি আপডেট হতে হতে ২জি, ৩জি, ৪জি এবং সব শেষে এখন ৫জি তে এসে পৌঁছেছে। এক সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করা যেত কিন্তু সেটি ছিল অনেক বেশী ধীর গতির।

তাই পরবর্তিতে তথ্য আদান প্রদান করার জন্য গবেষকগণ টেকনোলোজির আপডেট করা শুরু করে দিলো আর তার পর থেকেই কথা বলা থেকে শুরু করে ভিডিও কল, ভিডিও স্ট্রিমিং সমস্ত কিছুই অনেক বেশী সহজ হয় যায়।

বর্তমান সময়ের আবিস্কার ৫জি প্রযুক্তি আরও বেশী আপডেট করে তুলেছে সমস্ত কিছুকে। এখন চাইলেই মূহুর্তের মধ্যেই ৫ জিবির একটি মুভি ডাউলোড করে ফেলা যায় আবার ৪কে ভিডিও গুলো স্ট্রিমিং করতে কোন প্রকার বাধাপ্রাপ্ত হয়না।

তাই আজ এই ৫জি সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো। আমারা সবাই জানি যে যেকোনো আবিস্কার হোক না কেন তার কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা থেকেই যায়।

৫জি নেটওয়ার্ক কি ?

৫জি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ

এই ৫জি নেটওয়ার্ক প্রথম উন্মুক্ত করা হয় ২০১৮ সালে যেটি নাসা করেছিলো। সংক্ষিপ্ত নাম ৫জি যাকে বলা হয় ৫ম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক। এটি মূলত ৫ম প্রজন্মের উন্নত একটি প্রযুক্তি যা ব্যবহার প্রতি সেকেন্ডে ২০ এমবিপিএস ইন্টারনেট স্পিড পাওয়া যায় এবং অতি দ্রুত ডেটা এক জায়গা থেকে অন্য যায়গায় স্থানান্তর করা যায়।

এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা ৪র্থ প্রজন্মের ৪জি নেটওয়ার্কের চাইতে ১০ গুন বেশী কাজ করে থাকে এবং ইন্টারনেট স্পিড অনেক বেশী হয়ে থাকে। এই ৫জি প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৩.৫ থেকে ৪.২ গিগাহার্জ তরঙ্গ যা নেটওয়ার্ককে অন্য পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম।

ইন্টারনেট স্পিড ২০ মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ড করার জন্য এটিতে ব্যবহার করা হয়েছে মিলিমিটার তরঙ্গ যার আনুমানিক গতি সীমা রয়েছে প্রতি সেকেন্ডে ৩.৫ মেগাবাইট পর্যন্ত।

৫জি প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত অ্যান্টেনা এবং উচ্চ মাপের ব্যান্ডউথ যা খুব সহজেই ডেটা স্থানান্তের গতিকে অতি সহজেই বাড়িয়ে দেয়। গতি ও ক্ষমতার দিক দিয়ে ৫ জি নেটয়ার্ক এত বেশী উন্নত যে অন্যান্য নেটওয়ার্ক যেমন ব্রডব্যান্ড সেটিকেও পেছনে ফেলে রাখতে পারে।

এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা ব্যবহার করে একটি মোবাইল থেকে অন্য সব মোবাইলে অতি সহজেই নেটওওয়ার্ক প্রদান করা যায় এবং যার ফলে সব গুলো মোবাইল ফোন একই নেটওয়ার্কের আয়তায় থাকতে পারে। আর এর কারণ হচ্ছে এটি অটোমেটিক ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক প্রস্তুত করতে পারে যখন একটি ফোন থেকে অন্য একটি ফোনে নেটওয়ার্ক প্রেরণ করা হয়।

এই ৫জি প্রযুক্তি নিজের ব্যাক্তিগত কাজ থেকে শুরু করে, অফিস, এবং ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা যায় কারণ এটি অন্যান্য সব নেটওয়ার্কের মতই শুধু জেনারেশন এবং প্রযুক্তির আপডেট করা হয়েছে। ৫জি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ আরও তথ্য দেখুন,

আরও দেখুন,

তিন প্রযুক্তির ইন্টারনেট স্পিড পরিমাণ

বিশেষ করে যখন আমরা ৩জি জেনারেশনের যুগে ছিলাম তখন তার নেট স্পিড ছিল ২০০ কিলোবাইট থেকে ১/২ মেগাবাইট তাও সেটি বিভিন্ন জায়গা ভিত্তিক আপডাউন হত। এর পর যখন ৪জি প্রযুক্তি আসলো তখন তার স্পিড দেয়া হলো প্রতি সেকেন্ডে ১০০ মেগাবাইট পর্যন্ত কিন্তু আদৌ সেটি মানুষ পেয়েছে কিনা সেটি আমার আকছে একটু সন্দেহ হয়।

এখন বেশ কয়েকটি দেশেই চালু হয়েছে ৫জি নেটওয়ার্ক সেবা যার ইন্টারনেট স্পিড প্রতি সেকেন্ডে ২০ মেগাবাইট থেকে শুরু করে ১০০০ মেগাবাইট পর্যন্ত হতে পারে বলে জানা যায়। তাছাড়াও এর গতি সীমা ১.৯ গিগাবাইট পর্যন্ত হতে পারে।

৫জি নেটওয়ার্ক কিভাবে ব্যবহার করা যাবে?

দেখুন শুধুমাত্র কয়েকটি দেশেই চালু করা হয়েছে ৫জি নেটওয়ার্ক তাই যদি আপনি সেই দেশ বা এলাকা অন্তর্ভুক্ত হলে অবশ্যই ৫জি ইন্টারনেট এবং নেটওয়ার্ক সেবা পেতে পারবেন।

আর এর জন্য অবশ্যই আপনার কাছে ৫জি সাপর্টেড মোবাইল ফোন থাকতে হবে। কারণ অন্যান্য ফোন গুলোতে ৫জি ইন্টারনেট পাওয়া যাবেনা। এই দুইটি মাধ্যম থাকলেই আপনি অতি সহজেই ৫জি সেবাটি পেতে পারবেন।

৩জি ও ৪জি ফোনে কি ৫জি নেটওয়ার্কে কাজ করবে ?

না এটি কোনভাবেই সম্ভব নয় কারণ ৩জি ফোন গুলোতে শুধু মাত্র ৩জি নেটওয়ার্ক কাজ করবে নতুবা অন্য কোন নেটওয়ার্ক কাজ করতে পারবেনা কারণ হচ্ছে ঐ সমস্ত ফোন গুলোতে ৫জি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু আপনি ৩জি আসার পূর্বে যে সমস্ত নেটওয়ার্ক ছিল সেগুলো ব্যবহার করতে পারবেন কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই।

ঠিক একই রম আপনি কোনভাবেই ৪জি ফোন গুলোতে ৫জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেননা কারণ প্রযুক্তিগত অনেক পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু আপনি ৪জি ফোন গুলোতে ৩জি নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।

শুধু তাই নয় ৩জি এবং এর আগের সব নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাবে।

৫জি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ সুবিধা এবং অসুবিধা

দেখুন যখনই একটি নতুন প্রযুক্তি আবিস্কার হয় তখন সেই আবিস্কারের পেছনে যেমন অনেক ঘটনা থেকে যায় ঠিক তেমনি কিশু সুবিধা এবং অসুবিধাও থাকে। তচনবিস্ময়কর আবিস্কার ৫জি নেটওয়ার্ক এর যে সমস্ত সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে সেটি নিয়ে বিস্তারিত কিছু আলোচনা করা যাক।

৫জি নেটওয়ার্ক সুবিধা

  • ৫জি নেটওয়ার্ক অধিক বেশী গতি সম্পন্ন হওয়ার কারণে খুব তাড়াতাড়ি যেকোনো ফাইল ডাউনলোড করে নেয়া যায়। হতে পারে আপনি একটি ৪জিবির মুভি ডাউনলোড করলেন এবং সেটি মিনিটের মধ্যে ডাউনলোড হয়ে যায়।
  • সুপার ফাস্ট ইন্টারনেট ব্যবহার করে করে কোন প্রকার ল্যাগিং ছাড়াই যেকোনো মোবাইল গেমস খেলা যায়।
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে অন্য রকম পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
  • ইউটিউব ভিডিও দেখতে কোন প্রকার বাফারিং করেনা।
  • এটিতে হাই রেজুলেশন এবং উচ্চ মানের ব্যান্ডউথ পাওয়া যায়।
  • অনেক গুলো নেটওয়ার্ককে একটি মাধ্যমে ব্যবহার করার মত সুযোগ রয়েছে।
  • অনেক বেশী কার্যকরী এবং দক্ষতার সাথে কাজ করে থাকে।
  • এটি সমস্ত প্রযুক্তিকে অধিক সহজতর করে তোলে ডেটা কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে।
  • পূর্ববর্তি নেটওয়ার্ক গুলোর সাথে অনেক বেশী সাদৃশ্য পূর্ন তাই সহজেই সব গুলো একই সাথে পরিচালনা করা যায়।
  • পূর পৃথিবী জুড়ে নিরবিচ্ছিন্ন সংযোগ প্রদান করে থাকে।
  • আপনি এটি ব্যবহার করার সময় অন্য কারো লোকেশন এবং আবহাওয়া জানতে পারবেন সহজেই।
  • নিজের হাতে থাকা মোবাইল ব্যবহার করেই বাড়িতে থাকা কম্পিউটার পরিচালনা করা যায়।
  • শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক বেশী পরিবর্তন নিয়ে আসবে কারণ ঘরে বসেই বিশ্বের যেকোনো দেশের কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে লেখা পড়া করা যাবে।
  • চিকিৎসা ক্ষেত্রে নিয়ে আসবে আরও বেশী পরিবর্তন।
  • সরকারি বলুন অথবা বেসরকারি সমস্ত কাজ কর্ম এবং কর্মিদের অতি সহজেই যেকোনো স্থানে বসেই মনিটরিং করা যাবে।
  • খুব সহজেই হারিয়ে যাওয়া ব্যাক্তিকে খুঁজে পাওয়া যাবে যদি তার কাছে ৫জি সাপর্টেড ডিভাইস এবং সিম কার্ড থাকে।
  • যেকোনো আবহাওয়া বার্তা খুব দ্রুত পাওয়া সম্ভব হয়ে উঠবে।

৫জি নেটওয়ার্ক অসুবিধা

  • অসুবিধার মধ্যে রয়েছে আপনি যেখানে থাকবেন তার আশেপাশে যদি ফাঁকা জায়গা না থাকে যেমন গাছ এবং বিল্ডিং দ্বারা আবদ্ধ থাকে তাহলে নেটওয়ার্ক আশা বন্ধ করে দিবে এবং স্পিড কমে যাবে।
  • বিশেষ ক্ষেত্রে আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকলে যেমন ঝর বা বৃষ্টি হলে এর নেটওয়ার্ক স্পিড অনেক অংশে কমে যাবে।
  • নিজের ডিভাইস যদি ভালো না হয় তাহলে অতি তাড়াতাড়ি গরম হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • ভিডিও ডাউনলোড হবে তাড়াতাড়ি কিন্তু সেই অনুযায়ী আপলোড স্পিড পাওয়া যাবেনা।
  • এই প্রযুক্তি নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে তাই সমস্ত তথ্য পাওয়া অনেক বেশী কষ্টসাধ্য।
  • প্রতিষ্ঠাতা যে পরিমাণ গতির কথা দাবি করছে সেটি নাও পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা রয়েছে।
  • পুরাতন ডিভাইস গুলো ৫জি নেটওয়ার্ক সাপর্ট করবেনা তাই সবাইকে এই সেবা পেতে হলে নতুন ৫জি সাপর্ট করা ফোন কিনতে হবে।
  • এটি অনেক বেশী ব্যয় বহুল গ্রাহক ইন্টারনেট কিনতে হিমসিম খেয়া যাবে।
  • এখন পর্যন্ত গোপনীয়তা নীতি নির্ধারন করা হয়নি।

বাংলাদেশে ৫জি চালু হয় কবে

৫জি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ সর্বপ্রথম ৫জি নেটওয়ার্ক সেবা চালু করে টেলিটক। গত ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর চালু হয় এই সেবাটি। এটি শুরু মাত্র স্পেসিফিক কয়েকটি যায়গায় চালু করে টেলিটক।

এই ৫জি নেটওয়ার্ক গ্রাহকদের উচ্চ গতির ইন্টারনেট থেকে শুরু করে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক্স ইত্যাদি বিষয় গুলোতে অনেক বেশী সুবিধা দিবে বলে জানা যায়।

প্রশ্ন উত্তর দেখুন,

৫জি নেটওয়ার্ক কি?

মূলত নেটওয়ার্ক এর জেনারেশন পরিবর্তন হয়ে যখন ৫ম প্রজন্মে আপডেট হয়েছে তাকেই ৫জি নেটওয়ার্ক বলা হয়। সহজ ভাষায় ৫ম প্রজন্মের যে নেটওয়ার্ক রয়েছে তাকেই ৫জি নেটওয়ার্ক বলা হয়।

৫জি নেটওয়ার্কের ইন্টানেট স্পিড কেমন?

এটি সেকেন্ডে ২০ মেগাবাইট থেকে শুরু করে ১.৯ টেরাবাইট পর্যন্ত স্পিড দিতে পারে।

বাংলাদেশে কবে ৫জি সেবা চালু হয়?

২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রথম বাংলাদেশে ৫জি নেটওয়ার্ক চালু করে টেলিটক কোম্পানি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.